অদৃশ্য মায়া

Apr 23, 2015 09:55 am


আবদুর রশিদ

প্লেনের দরজার সামনে দাঁড়াতেই একরাশ শীতল হাওয়া কবির সাহেবের দেহে ও হৃদয়ে শিহরণ জাগিয়ে গেল। আহ! কী সুন্দর স্নিগ্ধ বাতাস, কবির সাহেবের অজান্তে কথাটি মুখ থেকে বেরিয়ে গেল। তিনি প্রাণভরে নিঃশ্বাস নিলেন। এরকম স্নিগ্ধ বাতাস তিনি অনেক দিন গায়ে মাখেননি। কবির সাহেব সাত বছর আমেরিকায় কাটিয়েছেন। এই দীর্ঘ সময় তিনি এরকম সুন্দর বাতাস গায়ে মাখিয়েছেন কি না মনে করতে পারলেন না। এক দিনেরও কিছু বেশি সময় ধরে তিনি প্লেনে আছেন। এই সময়টা তার কাছে এক বছর সমান মনে হয়েছে। তার সময় যেন কাটতেই চায় না।

এই লম্বা জার্নিতে মাত্র একবার প্লেন লন্ডনের বার্মিংহাম এয়ারপোর্টে ঘণ্টা দু’য়েক ল্যান্ড করেছিল। তখন অনেক যাত্রী নামলেও কবির সাহেব নামেননি। তারপর প্লেন সেই যে সুদূর আকাশে পাখা মেলেছে তা বাংলাদেশে পৌঁছা পর্যন্ত ক্ষান্ত হয়নি। কবির সাহেব প্লেনের সিঁড়ি বেয়ে ধীর পদক্ষেপে নিচে নেমে এলেন। দীর্ঘ সময় বসে থাকতে থাকতে শরীরটা কেমন যেন ঝিম ধরে গেছে। কবির সাহেব শরীর আড়মোড় কেটে নিজের জিনিসপত্র হাতে নিলেন। জিনিসপত্র তেমন কিছুই না। কাঁধে একটা সাইডব্যাগ আর হাতে একটা ছোটখাটো লাগেজ। ব্যস এটুকুই। অন্যান্য মানুষের মতো তিনি নিজেকে মালসামানের ঝামেলায় জড়াননি। তিনি ভিসা ও পাসপোর্টের ঝামেলা চুকিয়ে এয়ারপোর্টের বাইরে এসে দাঁড়ালেন। তার চোখের সামনে চিরচেনা সেই ব্যস্ত ঢাকা শহর।

গত সাত বছর আগে যে ঢাকা শহর তিনি দেখেছেন তার সাথে কোনো তফাত নেই আজকের ঢাকা শহরের। বরং ভিড় যেন আরো বেড়েছে। চারদিকে হালকা কুয়াশা, এর মাঝ দিয়েই গাড়িগুলো ছুটে চলেছে আপন গন্তব্যে। আচ্ছা এখন বাজে কত? কবির সাহেব ঘড়ির দিকে তাকালেন। পরক্ষণেই তিনি হতাশ ভঙ্গিতে ঘড়ি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। কারণ বাংলাদেশের সময়ের সাথে ঘড়ির একটুও মিল নেই। আকাশ-পাতাল তফাত। তিনি দেরি করে একটি বেবিট্যাক্সি ভাড়া করে তাতে উঠে পড়লেন। স্যার কই যামু, ড্রাইভার মুখ ঘুরিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করল।
তিনি ঠিকানা বলে দিয়ে সিটে হেলান দিয়ে চোখ বুজলেন। তার খারাপ লাগছে। পুরনো ব্যথাটা মনে হয় আবার উঠেছে। শ্বাস নিতে কবির সাহেবের কষ্ট হচ্ছে, মনে হচ্ছে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে না তো? কবির সাহেব উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লেন। কারণ তিনি যে বাংলাদেশে আসছেন তা কেউ জানে না। তিনি কাউকে খবর দিয়ে আসেননি। এ অবস্থায় বাড়িতে গেলে তাকে নিয়ে অহেতুক একটা ঝামেলা সৃষ্টি হবে। তিনি সেটা চান না। এসব ভাবতে ভাবতে কবির সাহেব ঘুমিয়ে পড়লেন। যখন ঘুম ভাঙল, তিনি দেখতে পেলেন বেবিটা থেমে আছে আর ড্রাইভার কাছেই এক দোকানে বসে চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছে। কবির সাহেব ড্রাইভারের কাছে গিয়ে একটা বেঞ্চে বসে পড়লেন।
ড্রাইভার বলল স্যার চা খাইবেন? এই ব্যাডা খুব ভালো চা বানায়। কবির সাহেব ড্রাইভারের দিকে তাকালেন। সে আগ্রহভরে তার দিকে তাকিয়ে আছে।


কবির সাহেব সহজে বললেন ঠিক আছে, দিতে বলো। কবির সাহেব চা খেতে খেতে বললেন তোমার নাম কী?
ড্রাইভার সহাস্যে বলল স্যার আমার নাম শামসু, শামসুর রহমান। লোকে আমারে কালা শামসু বইল্যা ডাহে। আমি কালো তো হেইল্যাইগা।
কবির সাহেব ড্রাইভারের দিকে তাকিয়ে আছেন। ড্রাইভারের কথা শুনতে তার ভালো লাগছে। অনেক দিন পর তিনি এ ধরনের কথা শুনছেন। তা ছাড়া তার ব্যথাটা এখন আর নেই। কবির সাহেব ড্রাইভারের সাথে অনেক সময় কাটালেন। তারপর তাকে ভাড়া এবং কিছু বখশিশ দিয়ে জিনিসপত্র নিয়ে গলিতে ঢুকে পড়লেন। আগে এই গলিতে কবির সাহেবদের বাড়ি ছাড়া আর চার-পাঁচটা বাড়ি ছিল। আর এখন পুরো গলিটা বড় বড় দালানকোঠা আর বাড়িঘরে ভরে গেছে। কবির সাহেব হাঁটতে হাঁটতে গেটের সামনে এসে দাঁড়ালেন। নাহ একটুও বদলায়নি। তাদের বাড়িটা ঠিক আগের মতোই আছে। তবে পুরো বাড়িটায় কেমন যেন সাজসাজ রব।

কবির সাহেব বুঝতে পারলেন তার বড় ভাইয়ের মেয়ে তানিয়ার বিয়ে উপলক্ষে বাড়িটাকে সাজানো হয়েছে। কবির সাহেবদের বাড়িটা পুরনো ও বড়। এজন্যই কখনো কারোর চিনতে অসুবিধা হয় না। কবির সাহেব নিজেই গেট খুলে আস্তে আস্তে হাঁটতে লাগলেন। কয়েকটা ছেলেমেয়ে খেলা বন্ধ করে তার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। কে যেন বাড়ির দোতলা থেকে চেঁচিয়ে উঠল ছোট চাচা এসেছে, ছোট চাচা এসেছে। কবির সাহেব বাইরে থেকে সিঁড়িতে অনেক পায়ের শব্দ শুনলেন। কবির সাহেব সরে দরজার সামনে দাঁড়িয়েছেন, অমনি দরজা খুলে ২০-২৫ জন নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোর এক সাথে বেরিয়ে এলো। এরা সবাই কবির সাহেবের খুব আপনজন। কবির সাহেবদের একান্নবর্তী পরিবার। আজকের এই আধুনিক সমাজে যা প্রায় বিরল। কবির সাহেবরা চার ভাই। তিনিই ছোট। এই ২০-২৫ জন তাদেরই স্ত্রী, সন্তান, বা নাতি।

কবির সাহেব সবার সাথে কুশল বিনিময় করলেন। তারপর অসুন্ধানী দৃষ্টিতে এদিক ওদিক তাকাতে লাগলেন। সিঁড়ি বারান্দায় তার চোখ আটকে গেল। তানিয়া দরজার কপাট ধরে কবির সাহেবের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। এক দিন বাদে সে এ বাড়ি ছেড়ে শ্বশুরবাড়ি চলে যাবে, স্বামীর আদর-সোহাগ ও ভালোবাসায় সে নতুন জীবন শুরু করবে। কবির সাহেব এগিয়ে গিয়ে হাত প্রসারিত করলেন। তানিয়া চাচ্চু বলে তার বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ল। তিনি সস্নেহে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলেন। কবির সাহেব অনুভব করলেন তার বুকের ওপরে শার্টের একাংশ ভিজে গেছে। তানিয়া কাঁদছে। এতো দিনের জমানো কান্না যেন বাঁধ ভাঙার মতো বেরিয়ে আসতে চাইছে। কবির সাহেবেরও নিজের অলক্ষে দু’ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। মেয়েটা খুব জেদি হয়েছে। সে কেন বুঝতে চায় না যে, তিনি শুধু পুরনো কষ্ট ভুলে থাকার জন্যই দেশ ছেড়েছেন। তিনি কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না যে, যার সাথে দীর্ঘ ১১ বছর সংসার করেছেন, সেই প্রিয় সহধর্মিণী হঠাৎ করে তাকে একা করে এই দুনিয়া ছেড়ে চলে যাবে। তার মৃত্যুর পর তিনি স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তিনি ভেতরে ভেতরে একদম মূর্ছা যান।

কবির সাহেবের ভাইয়েরা তাকে বললেন কোনো মেয়ে যখন নেই তখন পারিবারিক দিক দিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু কবির সাহেব এই আকস্মিক দুর্ঘটনাটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না। তিনি সারাদিন কাজে ব্যস্ত থাকতেন আর বেলা শেষে যখন বাড়ি ফিরতেন তখনি একাকীত্ব তাকে ঘিরে ফেলত, তিনি না পারতেন কারো সাথে স্বাভাবিকভাবে দু’দণ্ড কথা বলতে, না পারতেন চুপচাপ বসে থাকতে। কবির সাহেবের কোনো সন্তান ছিল না। তাই বলে তাদের সংসারে কোনো রকমের দাম্পত্য কলহ ছিল না। কোনো সন্তান না থাকায় কবির সাহেবের স্ত্রী কবির সাহেবের বড় ভাইয়ের মেয়েকে নিজ সন্তানের মতো ভালোবাসত। মেয়েটা সেই ছোট বয়স থেকে বেশিরভাগ সময় তার কাছে থাকত বলে কবির সাহেবের স্ত্রীকেই মা বলে ডাকত। আর এ ব্যাপারে কবির সাহেব ছিলেন নির্লিপ্ত। তার সন্তান হয় না বলে স্ত্রীর ওপর কোনো ক্ষোভ ছিল না। বরং তিনিও তানিয়াকে নিজ সন্তানের মতো ভালোবাসতেন।


কবির সাহেব সব কিছু চুকিয়ে পাড়ি জমান সুদূর আমেরিকায়। একটু মানসিক প্রশান্তির আশায়। তারপর কেটে গেছে সাত সাতটি বছর। এই দীর্ঘ সময়ের মাঝে খুব কমই তিনি বাড়ির সাথে যোগাযোগ রেখেছেন। শেষ যখন তিনি বাড়িতে কথা বলেন তখন তার বড় ভাই বললেন অনেক দিন তো হয়ে গেল এবার ফিরে এসো। তিনি বলেছিলেন এখনি দেশে যাওয়ার ইচ্ছা তার নেই। তখন গম্ভীর হয়ে বলেছিলেন মেয়েটার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে ক’টা দিন বাড়িতে থেকে গেলে হতো না? উত্তরে কবির সাহেব কোনো কথা বলতে পারেননি। তারপর হঠাৎ করেই তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি দেশে ফিরে আসবেন।


বিয়ের দিন খুব ভোরে তিনি ঘুম থেকে উঠলেন। ছাদে গিয়ে পাইচারি করতে লাগলেন। চার দিকে হালকা কুয়াশা। তিনি টবে রাখা অযতেœ বেড়ে ওঠা সাদা ফুলের পাতায় কোমলভাবে হাত রাখলেন। তার খুব ভালো লাগে। তিনি পেছনে কারোর আগমন অনুভব করলেন। পেছনে ফিরে দেখলেন তানিয়া দাঁড়িয়ে আছে। তার চোখ দু’টি ফোলা। কিরে মা রাতে ভালো ঘুম হয়নি? বলে তিনি মমতায় তাকে কাছে টেনে নিলেন। কবির সাহেব যার জন্য বাংলাদেশে এসেছেন, সেই তাকে নিয়ে একটু পরে পুরো বাড়ি ব্যস্ত হয়ে পড়বে। তারপর সে সারাজীবনের জন্য চলে যাবে স্বামীর বাড়ি। কবির সাহেব বুঝতে পারলেন, এই সময়টায় শেষ। এরপর আর কোনো দিন হয়তো তিনি এভাবে তানিয়াকে কাছে পাবেন না। তিনি আরো নিঃসঙ্গ হয়ে পড়বেন। কবির সাহেব সারাটা দিন বাড়িতে কাটালেন। ক্ষণে ক্ষণে বাড়িতে ভিড় বাড়ছে। যে যার কাজে ও হাসি-তামাশায় ব্যস্ত। কবির সাহেব লক্ষ করলেন মাঝে মাঝেই অনেক উৎসুক চোখ তার দিকে তাকিয়ে আছে। হয়তো এরা কবির সাহেবের কোনো আত্মীয় হবে। কবির সাহেব সেদিকে ভ্রক্ষেপ করলেন না। তার মতো অর্ধপৌঢ় ব্যক্তিকে বিশেষভাবে দেখার কিছু নেই। তিনি তার ঘরে চলে এলেন। এখানে একদম নীরব। বাইরে থেকে চেঁচামেচির শব্দ আসছে। তিনি জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন। নিচে তার বড় ভাই জোরে জোরে কার সাথে যেন কথা বলছেন। মোটামুটি একটা জটলাই হয়ে গেছে সেখানে। কবির সাহেব জানালা বন্ধ করে দিলেন। বিয়ে বাড়িতে এমন ছোটখাটো ঝুটঝামেলা হবে। এতে চিন্তার কিছু নেই।


রাত প্রায় ১০টা নাগাদ তারা তানিয়াকে বিদায় দিতে পেরেছেন। বিদায়মুহূর্তে তানিয়া যখন কবির সাহেবের কাছে এলো, তখন তিনি ছিলেন নির্লিপ্ত। আর তানিয়ার চোখও ছিল শুষ্ক। হয়তো সে বুঝে ফেলেছে যে বাস্তবকে মেনে নিতেই হবে। যদিও মন সেটা না চায়। এখন রাত ১২টার মতো। পুরো বাড়িতে কেমন যেন নির্জীব ভাব বিরাজ করছে। সারাদিনের ব্যস্ততার পর ক্লান্ত হয়ে সবাই নেতিয়ে পড়েছে সুপ্ত নিদ্রার কোলে। শুধু জেগে আছেন কবির সাহেব। দেয়ালঘড়িটা ১২টা বাজার সঙ্কেত দিলো। কবির সাহেব দরজা খুলে নিচে নেমে এলেন। নির্ঘুম চোখে শুয়ে থাকার কোনো মানে হয় না। তিনি বাইরের লোহার ফটক খোলার সময় লক্ষ করলেন দাড়োয়ান হতভম্ব হয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে। কবির সাহেব কিছু না বলে রাস্তায় নেমে এলেন। গলি পাড় হতেই মেইন রোড। তিনি আকাশের দিকে তাকালেন। আধখানা চাঁদ অপলক নেত্রে তাকিয়ে আছে পৃথিবীর দিকে। তারাগুলো অস্পষ্ট, আকাশে ঘন কুয়াশার আস্তরণ। তার দৃষ্টি হারিয়ে যায় ঘন কুয়াশায় ঢাকা দূর নিলীমায়। কবির সাহেব চোখ নামিয়ে নেন। তার চোখের সামনে ঘুমন্ত শহর। বড় আজব লাগে এই শহরকে। দিনের বেলায় এই শহর যানজট আর গাড়ির হর্নে মুখর হয়ে থাকে। তখন বাইরে বের হওয়াই দুষ্কর হয়ে পড়ে। আর এখন পুরো শহর নীরব নিথর হয়ে আছে। রাস্তা ফাঁকা, লাইটপোস্টগুলো নীরব প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে আছে। মাঝে মাঝে দু-একটা গাড়ি শাঁ শাঁ করে বের হয়ে যাচ্ছে। কবির সাহেব এসব দেখতে দেখতে ভাবনায় ডুবে যান। আজকের দিনটা তাদের বাড়িতে কত আনন্দ-ফুর্তি আর ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে পার হয়েছে। কিন্তু কারো কি মনে আছে এমনি একটা আনন্দমুখর দিনে তিনি বিয়ে করেছিলেন। যাকে নিয়ে এত আনন্দ-উল্লাস হয়েছিল। যে মানুষটি লাল শাড়ি পরে বধূ সেজে এ বাড়িতে এসেছিল। সেই মানুষটিকে কেউ কি মনে রেখেছে? আচ্ছা তানিয়ার কি আজ একবারও মনে পড়ছে যে একটা মানুষ ছিল যে তাকে নিজের প্রাণের চেয়ে বেশি ভালোবাসত। হয়তো মনে পড়েছে। সবার অলক্ষ্যে নিজের অজান্তে দু’ফোঁটা অশ্রুও হয় তো গড়িয়ে পড়েছে। কিংবা হয়তো মনেই পড়েনি। অনেক আগে একটা মানুষ মারা গেছে।


কবির সাহেব সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন তিনি পরশু দিনই উড়াল দেবেন সুদূর আমেরিকার পথে। আবার সেই মুক্ত জীবন। তিনি সেখানে ভাবনাহীন স্বাধীন জীবনযাপন করবেন। পরক্ষণে তার মনে প্রশ্ন জাগে তিনি কি আসলেই স্বাধীন? উত্তরটা কবির সাহেবের জানা। তিনি স্বাধীন নন। মাঝে মাঝেই কী এক মায়ার বাঁধন তাকে বেঁধে ফেলতে চায়। সেই মায়ার টানে তিনি ফিরে আসতে চান আগের জীবনে। কিন্তু ফিরতে গেলেই দেখেন পেছনে কিছু নেই। শুধুই একাকী জীবনের হাহাকার। শুধুই বিষাদভরা কষ্ট। এ কষ্ট থেকে তার কোনো দিনই মুক্তি নেই। দূরে কোথায় যেন একটা নিশাচর কুকুর ডেকে উঠল। কবির সাহেবের ভাবনা কেটে গেল। তিনি ঘড়ির দিকে তাকালেন, ৩টা ১০ মিনিট বাজে। কবির সাহেবের মনটা গভীর শূন্যতায় ভরে ওঠে। তিনি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে বাড়ির দিকে ফিরে চললেন। নিজের অজান্তে এই কথাটি তার মুখ বেরিয়ে আসে
মানুষের ছোট্ট একটি জীবন, তাতে কতই না আনন্দ-বেদনার সমীরণ।