প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আগামীর বিশ্ব

May 17, 2015 08:31 am

 

প্রতিনিয়ত নতুন নতুন প্রযুক্তির আগমনে প্রযুক্তি দুনিয়ার চেহারা পাল্টে যাচ্ছে। প্রতি বছরই প্রযুক্তি প্রবণতায় আসছে বড় ধরনের পরিবর্তন। চলতি বছরে কোন ধরনের প্রযুক্তি রাজত্ব করবে তা নিয়ে গার্টনারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেভিড সিয়ারলি গেল গার্টনার সিম্পোজিয়াম আইটিএক্সপোতে কিছু ধারণা দিয়েছেন। সেই ধারণা অনুসরণ করেই প্রযুক্তিবিশ্বের চলতি বছরের আপডেট নিয়ে লিখেছেন
নাজমুল হোসেন

বিশ্বব্যাপী কোন কোন প্রযুক্তি বছরজুড়ে রাজত্ব করবে, তা নিয়ে গার্টনারের পক্ষ থেকে প্রতি বছরই বছর শেষের আগেই বিশ্লেষণমূলক আলোচনা হয়ে থাকে। গার্টনারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেভিড সিয়ারলি এ বছরের প্রযুক্তি প্রবণতাগুলোর বিশ্লেষণ করেছেন তিনটি ক্যাটাগরিতে। এগুলো হলো বাস্তব ও ভার্চুয়াল জগতের মধ্যে সমন্বয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ব্যবসার ডিজিটাইজেশনে প্রযুক্তির প্রভাব।


কম্পিউটিংয়ে বৈচিত্র্য
মোবাইল ডিভাইসের ব্যবহার প্রসারের ফলে কম্পিউটিংয়ের ব্যবহারে বৈচিত্র্য আসবে। স্মার্টফোন, ট্যাবলেট পিসি থেকে শুরু করে নানা ধরনের মোবাইল ডিভাইস নানা ধরনের মানুষের হাতে পৌঁছে যাওয়ার ফলে এত বৈচিত্র্যময় ব্যবহারকারীদের জন্য প্রয়োজন হবে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের কম্পিউটিং অভিজ্ঞতা। ফলে কেবল ডিভাইস-কেন্দ্রিক কম্পিউটিংয়ের ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে হবে আমাদেরকে। কম্পিউটিং সিস্টেমের সাথে পরিপার্শ্ব বা প্রতিবেশকেও যুক্ত করা হচ্ছে। উৎপাদনশীলতা আর কাজের দক্ষতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের সিস্টেমের দিকে ধাবিত হবে প্রযুক্তিবিশ্ব। এ ধরনের সিস্টেমে পরিপার্শ্বের বিভিন্ন অবস্থার ওপর ভিত্তি করে কম্পিউটিং ডিভাইসগুলো কাজের নির্দেশনা প্রদান করতে পারবে। ব্যক্তির উৎপাদনশীলতা নিশ্চিত করার জন্যও এমন সিস্টেম নির্দেশনা দিতে পারবে।


ইন্টারনেট অব থিংস
ইন্টারনেট অব থিংস ধারণাটি আলোচিত হয়ে আসছে কয়েক বছর ধরেই। গত বছরে এর ব্যাপক একটি প্রভাব দেখা গেছে। চলতি বছরে এসে এই প্রভাব আরো বেশি প্রকট হয়ে উঠবে। বিভিন্ন ধরনের পরিধেয় প্রযুক্তি পণ্য বা গেজেটের সাথে সাথে এখন ঘর-গৃহস্থালীর ইলেকট্রনিক দ্রব্যাদিও যুক্ত হয়ে যাচ্ছে ইন্টারনেটের সাথে। এমন ধরনের গেজেট আর পণ্য আরো বেশি প্রসারিত হবে চলতি বছরে। স্মার্ট শহরের ধারণাটি বাস্তবায়নের পথে চলতি বছর আরো বেশি সাফল্য দেখা দেবে। 


থ্রিডি প্রিন্টিং
কল্পনার থ্রিডি প্রিন্টিং এখন বাস্তবে পরিণত হলেও সাধারণ ব্যবহারকারীর হাতের নাগালে এই প্রযুক্তি এখনো পৌঁছায়নি। এখনো গবেষণাগারের প্রযুক্তি হিসেবেই রয়ে গেছে থ্রিডি প্রিন্টিং। একে সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে নিয়ে আসার জন্য চলতি বছর মাইলফলক হয়ে থাকতে পারে। নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় অনেক দ্রব্যাদিই এ বছরে এসে থ্রিডি প্রিন্টারে তৈরি হচ্ছে। এ ছাড়া শিল্প-কারখানাগুলোতেও থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের ব্যবহার ব্যাপক আকারে শুরু হয়ে যেতে পারে চলতি বছরে।


স্মার্ট গাড়ি ও রোবট
স্মার্ট ডিভাইসের নানাবিধ ব্যবহার ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। চলতি বছরে এসব ডিভাইসের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো স্বচালিত গাড়ি। গুগলসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানই এমন ধরনের গাড়ি আনছে চলতি বছর। এর সাথে এ বছর এসে শিল্পপর্যায়ে রোবটের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে নিতে পারে। ভার্চুয়াল পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট সার্ভিসও এখনকার সময়ে আলোচিত প্রযুক্তি। তথ্যপ্রযুক্তির জগতে এই স্মার্ট রোবটের ব্যবহার নতুন এক যুগেরই সূচনা করবে।


প্রোগ্রামিং
এর মধ্যেই বিগ ডাটা বা অ্যানালাইটিকসের ব্যবহার ব্যবসায়-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নতুন এক ক্ষেত্র উন্মোচন করেছে। চলতি বছরে এসে এ ধরনের অ্যানালাইটিকস পাবে নতুন মাত্রা। গত বছরে এসে আইবিএমের ওয়াটসন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য যেভাবে সেবা প্রদানের ধারা শুরু করেছে, চলতি বছরে এসে সেই ধারা আরো বেগবান হবে। বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এ বছরে এসে অনেকটাই এ ধরনের বিশ্লেষণী প্রোগ্রাম ও যান্ত্রিক বুদ্ধিমত্তার ওপর নির্ভর করতে শুরু করবে।


ক্লাউড কম্পিউটিং
ইতোমধ্যেই প্রচলিত স্টোরেজের বাইরে গিয়ে ক্লাউড স্টোরেজের দিকে ঝুঁকে পড়েছে ছোট-বড় সব ধরনের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান। সব ধরনের ডিভাইসেই এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধা থাকায় এর জনপ্রিয়তা এখন ব্যক্তিপর্যায়েও ছড়িয়ে পড়েছে। চলতি বছরে এসে এই ধারা আরো বেগবান হবে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা। 


সফটওয়্যার-অ্যাপ্লিকেশন অবকাঠামো
ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে এসে ব্যবসায়িক কার্যক্রম অবশ্যম্ভাবিভাবেই আইটি-নির্ভর হয়ে পড়েছে। তবে আগের মতো সফটওয়্যারের ব্যবহারের বদলে এখন শুরু হয়েছে অ্যাপ্লিকেশনের ব্যবহার। ফলে মৌলিক আইটি অবকাঠামোতে এসেছে পরিবর্তন। চলতি বছরে এসে সেই ধারা আরো শক্তিশালী হবে।


অনলাইন-নির্ভর প্রতিষ্ঠান
এন্টারপ্রাইজ পর্যায়ের আইটিও এখন অনেকটাই ওয়েব-নির্ভর হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন ধরনের সেবা এখন ওয়েবের মাধ্যমেই প্রদান করা হচ্ছে। অ্যামাজন, গুগল, ফেসবুকের মতো শীর্ষস্থানীয় সব আইটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম এখন বলতে গেলে পুরোটাই ওয়েবে হচ্ছে। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও এ বছরে এসে একই ধরনের কৌশলের দিকে ঝুঁকে পড়বে।


নিরাপত্তা
দীর্ঘ দিন ধরেই ডিজিটাল সিকিউরিটি প্রযুক্তিবিশ্বের জন্য বড় ধরনের একটি আতঙ্কের নাম। শীর্ষস্থানীয় সব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও নিজেদের নিরাপদ রাখতে সমর্থ হচ্ছে না। সেখানে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার কথা তো বলাই বাহুল্য। বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠানেই ডিজিটাল জগতে নিরাপত্তার জন্য থার্ড-পার্টি সলিউশন ব্যবহারের ধারা চলে আসছে। এই ধারা ভেঙে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিজেরাই তৈরি করছে।