আমরা নিজেদের ভুল থেকে শিক্ষা নিই

Jun 26, 2015 08:42 am

 

 

[প্রিন্স তুর্কি বিন ফয়সল আল সৌদ (৭০) হচ্ছেন সৌদি আরবের রাজকীয় পরিবারের একজন সদস্য। ১৯৭৭ সাল থেকে তিনি একটানা ২৪ বছর ছিলেন সৌদি গোয়েন্দা সংস্থা আল মুখাবারাত আল আ-মাহর মহাপরিচালক। পরে তাকে ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত করা হয়। তিনি মরহুম বাদশাহ ফয়সলের (১৯৬৪-৭৫) ছোট ছেলে এবং সৌদ আল ফয়সলের ভাই। বাদশাহ ফয়সলের ওই ছেলে ১৯৭৫ সাল থেকে একাধারে ৪০ বছর ছিলেন তার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। গত এপ্রিলে বাদশাহ সালমান তাকে এ পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। নতুন বাদশাহ সরকারের উচ্চপর্যায়ে এনেছেন বড় ধরনের পরিবর্তন। ফলে সৌদি শাসকদের নতুন প্রজন্ম এখন সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত।
‘আমরা আমাদের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে চেষ্টা করি’। কথাটা সৌদি রাজ পরিবারের প্রভাবশালী সদস্য প্রিন্স তুর্কি বিন ফয়সলের। স্পিয়েজেল সাময়িকীকে প্রদত্ত এক সাক্ষাৎকারে তিনি সৌদি আরবের আধুনিকতা অর্জনের জোর প্রয়াস, ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি ভূমিকা, ইরানবিরোধী মানসিকতা, সৌদি আরবে মানবাধিকার পরিস্থিতি প্রভৃতি বিষয়ে বক্তব্য রেখেছেন। বার্নহার্ড জ্যান্ডের নেয়া সাক্ষাৎকারে সৌদি রাষ্ট্রকে শক্তিশালী ও রক্ষণশীল রাজতন্ত্র হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। সাক্ষাৎকারটির ভাষান্তর করেছেন রুবাবা রায়হানা]

 

স্পিয়েজেল : বাদশাহ সালমান রাজকীয় উত্তরাধিকারের ক্রমতালিকায় পরিবর্তন এনেছেন। তিনি প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নায়েমকে যুবরাজ এবং প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে (বাদশাহর ছেলে) উপযুবরাজ নিযুক্ত করেছেন। এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?
প্রিন্স তুর্কি : বাদশাহ এ দু’টি পদের ব্যাপারে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা উত্তরাধিকার সংক্রান্ত পরিষদের অনুমোদিত। প্লিজ, সৌদি আরবের শাসনকাজ পরিচালনার মৌলিক আইনকানুনগুলো দেখে নিন।


স্পিয়েজেল : শুধু যে সাবেক যুবরাজ মুকরিনের পদে পরিবর্তন এসেছে, তা নয়। আপনার ভাই সৌদ আল ফয়সলের পদেও আরেকজন এসেছেন। আপনার ভাই তো প্রায় চার দশক ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তুর্কি : প্রিন্স সৌদ তার নতুন পদে থেকে সরকারের পররাষ্ট্রনীতি দেখাশোনা করার কাজ চালিয়ে যাবেন। তার ব্যাপক অভিজ্ঞতা অন্যান্য দেশের সাথে সম্পর্ক নির্দেশনার ক্ষেত্রে বাদশাহ সালমানের জন্য বেশ সহায়ক হবে। বাদশাহ নিজে পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করে থাকেন।


স্পিয়েজেল : ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি বলেছেন, অনভিজ্ঞ তরুণরা সৌদি রাষ্ট্রচালনার কাজটি হাতে তুলে নিয়েছে। এই অভিযোগের কী প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছিলেন?
তুর্কি : খুব আশ্চর্য হয়েছিলাম। কারণ, তার মতো অভিজ্ঞতার অধিকারী কোনো ব্যক্তি এমন অবমাননার দৃষ্টিভঙ্গী পোষণ করার অর্থ, তার চিন্তাভাবনায় কোনো না কোনো ত্রুটি আছে। যিনিই রিপোর্ট করুন, ভুল তথ্য দিচ্ছেন।


স্পিয়েজেল : মোহাম্মদ বিন সালমান ৩০ বছর বয়সেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে ইয়েমেনে অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সত্যিই তিনি খুব তরুণ।
তুর্কি : বাদশাহ সালমান আমাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনিই দিচ্ছেন দিকনির্দেশনাÑ শুধু ইয়েমেনে সামরিক অভিযান নয়, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক গুরুত্বপূর্ণ সব ইস্যুতেই। তিনি ১৮ বছর বয়সেই রিয়াদের গভর্নর হয়েছিলেন। বাদশাহ আবদুল আজীজ দেশটাকে ঐক্যবদ্ধ করার অভিযান শুরু করেছিলেন সেই ১৮ বছর বয়সেই। এখানে মানুষের মূল্যায়ন হয় তার কাজ দিয়ে, বয়স দিয়ে নয়।


স্পিয়েজেল : ষাটের দশকে আপনি দেখেছেন, মিসরীয়রা ইয়েমেনে ব্যর্থ হয়েছিল, আশির দশকে সোভিয়েতরা ব্যর্থ হলো আফগানিস্তানে এবং পরে আমেরিকানরা ব্যর্থ হয়েছে ইরাকে। আপনি কেন ইয়েমেনে অভিযানের ব্যাপারে আশাবাদী?
তুর্কি : অন্যরা ইয়েমেনে গিয়েছিল দখলের উদ্দেশ্যে। আসলে ওই ধারার সূচনা রোমানদের মাধ্যমে। আজ আমাদের লক্ষ্য, হাউছিরা এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ ইয়েমেনকে যা থেকে বঞ্চিত করেছেন, সেটি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। সেখানে অভিযানের প্রতি জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ, আরব লীগ, ওআইসি, উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থা (জিসিসি) এবং ইয়েমেনি জনগণের সমর্থন রয়েছে।


স্পিয়েজেল : কিছু দিন আগে, ইয়েমেনের প্রবাসী সরকার জাতিসঙ্ঘকে বলেছে স্থলবাহিনী মোতায়েন করার জন্য। আপনার মতে, ইয়েমেন অভিযান থেকে কী ফলাফল অর্জন করতে হবে এবং কখন এই অভিযানকে আপনি সফল বলবেন?
তুর্কি : আমি মনে করি না যে, এ ক্ষেত্রে কোনো সময়সীমা আছে। আবদে রাব্বো মনসুর হাদী ইয়েমেনের বৈধ প্রেসিডেন্ট। তিনি আন্তর্জাতিক সমর্থন চেয়েছেন। জিসিসি রাষ্ট্রগুলো, সেই সাথে মিসর, জর্ডান ও অন্যান্য রাষ্ট্র তাদের লক্ষ্য হচ্ছে, হাউছিসমেত ইয়েমেনের সব রাজনৈতিক গ্রুপকে সঙ্কটের রাজনৈতিক সমাধানে শামিল করা। কখনো এই অভিযানের সামরিক লক্ষ্য ছিল না। এটি একটি রাজনৈতিক উদ্যোগ।


স্পিয়েজেল : সৌদি সরকার তার অভিযানের সামরিক পর্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করেছে। তবুও অব্যাহত রয়েছে বিমান হামলা। এ দিকে হাউছিরা এখনো ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে এবং মানবিক পরিস্থিতির ঘটছে অবনতি। এই বিমান হামলায় অর্জন কতটুকু?
তুর্কি : জানি না, কোত্থেকে আপনি এসব তথ্য পেলেন। যদি আরব জোটের মুখপাত্রের বক্তব্য অনুসরণ করেন, জানতে পারবেন হাউছিরা এডেন, তায়েজ, হোদেইদা এবং অন্যান্য স্থানে পিছু হটেছে।
স্পিয়েজেল : এখন কী পদক্ষেপ নেয়া হবে?

তুর্কি : জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ হাউছিদের নিন্দা করেছে। সৌদি আরব ও তার মিত্ররা প্রেসিডেন্ট হাদীর জাতীয় সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বানকে সমর্থন জানিয়ে যাচ্ছে। এতে হাউছিসহ সব ইয়েমেনি দল শামিল থাকবে। হাউছিরা ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর যত অস্ত্র চুরি করেছে, সবগুলো ফেরৎ দিতে হবে, জোর করে যেসব শহর তারা দখল করে নিয়েছে, সব শহর ছেড়ে চলে যেতে হবে এবং যত লোককে বন্দী করেছে, সবাইকে মুুক্তি দিতে হবে। জাতীয় সংলাপে তাদের অংশ নেয়ার অনুমতি দেয়ার আগেই তারা এ কাজগুলো করতে হবে।


স্পিয়েজেল : ইরান ইয়েমেনে হস্তক্ষেপ করার কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ আপনার কাছে আছে কি?
তুর্কি : ইরানি হস্তক্ষেপের ব্যাপারে পাশ্চাত্যের সরকারগুলো এবং পশ্চিমা মিডিয়া দেখেও না দেখার ভান করছে মনে হয়। এমনকি সাবেক প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ যখন হাউছিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছিলেন, তখন তিনি সে সব অস্ত্রশস্ত্র দেখিয়েছিলেন, যা ইরান থেকে ইয়েমেনে পাচার করা হয়েছে। হাদী যখন ক্ষমতায় এলেন, এ ধরনের অস্ত্রবোঝাই একটি জাহাজ ধরা পড়েছিল। এই তো, মাত্র কয়েক দিন আগে দেখানো হলো ইরানের বিপ্লবী বাহিনী এবং সে দেশের সামরিক লোকজনের পরিচয়পত্র। এগুলো যুদ্ধের সময়ে আটক করা হয়েছে।


স্পিয়েজেল : ইরানিরা এসব কিছুই অস্বীকার করছে।
তুর্কি : এটিই কি তাদের কাছ থেকে আশা করেন না? তারা এমনকি, এটিও অস্বীকার করে যে, সিরিয়ায় তাদের সৈন্য রয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানী তার দায়িত্ব নেয়ার বর্ষপূর্তি উপলক্ষে তার ভাষায় ‘ইয়েমেন, সিরিয়া, লেবানন ও ইরাকের জনগণের প্রতি ‘ইরানের সমর্থনের প্রশংসা করেছেন। আমি বলব, এই উক্তি প্রমাণ করে যে, তিনি নিজে এ ধরনের ‘সমর্থন’ অনুমোদন করেছেন।


স্পিয়েজেল : রুহানীর র‌্যাডিকেল পূর্বসূরি মাহমুদ আহমাদিনেজাদ এখন ক্ষমতার বাইরে, সৌদি আরবে নতুন নেতৃত্ব ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত, ইরানের সাথে পরমাণু চুক্তির কাঠামো তৈরি হয়েছে এমন কিছু মিলিয়ে সৌদি-ইরান ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার এটিই কি উপযুক্ত সময় নয়?
তুর্কি : এ প্রশ্নটি আপনার করা উচিত প্রেসিডেন্ট রুহানীকে। যখন তিনি প্রেসিডেন্ট হলেন, তখন বলেছিলেন সৌদি আরবের সাথে সম্পর্ক উন্নত করার কথা। তবু বাস্তবে মনে হয়, এ অঞ্চলে তিনি আহমাদিনেজাদের পলিসির প্রসার ঘটিয়েছেন। যেমন, রুহানীর আমলে সিরিয়া, ইরাক, লেবানন ও ইয়েমেনে ইরান আরো বেশি জড়িয়ে পড়েছে। অন্য দিকে, আমরা প্রকাশ্যে বলেছি বাদশাহ আবদুল্লাহ ও বাদশাহ সালমান দুইজনের শাসনকালেই, আমরা ‘প্রতিবেশীদের সাথে সুস্পর্ক কামনা করি।’ এই দৃষ্টিভঙ্গীর অর্থ, আমরা হাত বাড়িয়ে দিয়েছি। এখন তা গ্রহণ করা ইরানিদের ব্যাপার।


স্পিয়েজেল : সৌদি মিডিয়া ইরানবিরোধী মানসিকতায় পূর্ণ।
তুর্কি : ইরাকের পত্রপত্রিকার দিকে তাকিয়েছেন? সেখানে ২০টির বেশি রেডিও আর টিভি চ্যানেল আরব বিশ্বকে টার্গেট করে ঘৃণা, কুৎসা এবং আরববিরোধী বক্তব্য প্রচার করে চলেছে। আমাদের মিডিয়ায় ইরানের প্রতি শত্রুমনোভাবাপন্নতা থাকলে এর কারণ অনুধাবনযোগ্য।


স্পিয়েজেল : গৃহযুদ্ধে সিরিয়া ও ইরাক বিধ্বস্ত। এ দিকে মিসর অভ্যন্তরীণ নানা ইস্যুতে আক্রান্ত। সৌদি আরব কি আরব বিশ্বে নেতার ভূমিকা নিতে ইচ্ছুক?
তুর্কি : আমরা কখনো নিজেদের আরব জগতের একচ্ছত্র নেতা হিসেবে দেখিনি। সব সময়ে আমরা অন্যান্য দেশের সাথে মিলে কাজ করেছি। এর একটি দৃষ্টান্ত ইয়েমেন অপারেশন।


স্পিয়েজেল : কিন্তু সৌদি রাজতন্ত্র তাদের সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে কূটনীতির মাধ্যমে। যেমন, তায়েফ চুক্তি, যা লেবাননের গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছিল। অথচ ইয়েমেনে আপনারা সামরিক শক্তি হিসেবে ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন।
তুর্কি : ১৯৬০ সালে ইরাকি প্রেসিডেন্ট জেনারেল আবদুল করিম কাসিম ঘোষণা দিয়েছিলেন, কুয়েত ইরাকের অংশ। তখন আরবলীগ কুয়েতে যে বাহিনীকে অভিযানে পাঠায়, সৌদি আরব এতে অংশ নিয়েছিল। ১৯৬৭ সালে ‘ছয় দিনের যুদ্ধে’র পর জর্ডানে এবং ১৯৭৩ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধের পর সিরিয়ায় আমরা সৈন্য পাঠিয়েছি। আর ১৯৭৬-এ লেবাননে আরব লীগের প্রেরিত বাহিনীর অভিযানের কথা তো বলাবাহুল্য। ১৯৯১ সালে একজন সৌদি সেনাপতি, প্রিন্স খালিদ বিন সুলতান কুয়েত মুক্ত করার অভিযানে আরব-ইসলামি জোটকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনি এ দায়িত্বপালন করেছেন আমেরিকার জেনারেল নর্মান শোয়ার্জকফের পাশাপাশি। আরব দেশগুলোর পক্ষে সামরিক অভিযানে সামিল হওয়ার সামর্থ্য ও ইচ্ছা সৌদি আরব দেখিয়ে আসছে শুরু থেকেই।


স্পিয়েজেল : সিরিয়ার সঙ্ঘাতের প্রথম কয়েক মাসে সেখানকার সরকারবিরোধী শক্তিকে অবহেলা এবং ভুলভাবে উপস্থাপনের ‘অপরাধতুল্য’ ভূমিকার জন্য আপনারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অভিযুক্ত করেছেন। এখন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) ভূমিকার প্রেক্ষাপটে আপনি কি অস্বীকার করতে পারেন যে, সৌদি সরকার, কিংবা অন্তত এ দেশের নাগরিকরা ব্যক্তিগতভাবে আইএসকে সমর্থন জুগিয়েছেন?
তুর্কি : আমি এ অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করতে পারিÑ এমন কি ব্যক্তি হিসেবে নাগরিকদের ক্ষেত্রেও। আমরা সম্ভবত বিশ্বে সবচেয়ে কঠোর আইন করেছি দেশ থেকে বাইরে কোনো চাঁদা বা সাহায্য পাঠানোর ব্যাপারে। আমাদের ব্যাংকিং এবং অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের আইন-কানুনের সমন্বয় ঘটিয়েছি। যদি ‘ফাহিশ’ (আরবি অর্থ, অশালীন। এ নামে আইএস অভিহিত) কোনো ব্যক্তির চাঁদা গ্রহণ করে থাকে, তাহলে এই অভিযোগকারীরা চাঁদাদাতাদের নাম আমাদের জানানো উচিত। কিন্তু, কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ ছাড়াই ‘সৌদি আরব, কাতার ও আরব আমিরাতের প্রিন্স, শেখ ও অন্যরা এই গোষ্ঠীকে সাহায্য দিয়েছে’ এ কথা বারবার বলা মেনে যায় না।


স্পিয়েজেল : আপনি ইসলামিক স্টেটকে ‘অশালীন’ বলছেন। তবে এই আন্দোলন ইসলামের র‌্যাডিকেল ব্যাখ্যা দিচ্ছে। সৌদি আরবে কুরআনের যে ওয়াহহাবী ব্যাখ্যা শিক্ষা দেয়া হয়, সেটি আর আইএসের বক্তব্য একই।
তুর্কি : ওরা নিজেদের জন্য বৈধতা সন্ধান করছে। তা করছে আমার এবং সাধারণ মুসলমানদের ধর্ম ও জিহাদের ধারণা চুরি করে। জিহাদ হচ্ছে, মন্দ কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখার মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের একটি মর্যাদপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ। ওরা রাষ্ট্রের ধারণাও চুরি করছে। ওরা কোনো রাষ্ট্র নয়। ওরা এসব ঐতিহ্যের অপব্যবহার করছে মাত্র।


স্পিয়েজেল : ৫০ বছর আগে আপনার বাবা, মরহুম বাদশাহ ফয়সল দাসপ্রথা নিষিদ্ধ এবং মেয়েদের স্কুল চালু করেছিলেন। সৌদি আরবকে তিনি করেছিলেন আধুনিক। কিন্তু এখন সৌদি সরকার কঠোর শাস্তিদানের মধ্য দিয়ে বিশ্বকে মর্মাহত করছে। যেমন, ব্লগার রাইফ বাদাবির ঘটনা। বাদশাহ সালমানের আমলে সৌদি আরবের গন্তব্য কী?
তুর্কি : এ রাষ্ট্র এগিয়ে চলেছে, যেমনটি সব সময়েই এগিয়ে যায়। বাদশাহ সালমান কাজ করেছেন বাদশাহ আবদুল আজীজ, বাদশাহ সৌদ, বাদশাহ ফয়সালের অধীনে। এরপর বাদশাহ খালেদ, বাদশাহ ফাহাদ ও বাদশাহ আবদুল্লাহর অধীনেও কাজ করেছেন তিনি। যে সব সংস্কার এ দেশকে আজকের পর্যায়ে উন্নীত করেছে, এগুলো থেকে তিনি অবিচ্ছেদ্য। আর যদি কোনো জাতির দৃষ্টান্ত থাকে সমাজ ও রাজনীতির একটি পর্যায় থেকে আরেক পর্যায়ে পৌঁছার, তা হলে জার্মানদের কথা ভাবুন। নাৎসিরা জার্মানি শাসন করার পর মাত্র ৭০ বছর পার হয়েছে। ওরা সবচেয়ে ভয়াবহ অপরাধগুলো সংঘটিত করেছিল। কিন্তু এখন জার্মানির অবস্থান কোথায়? তারা অনেক পথ পাড়ি দিয়ে এসেছে। আমরাও প্রতিদিন নিজেদের কাজের দিকে তাকাই। আমাদের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আচরণ উন্নত করার জন্য আমরা চেষ্টা করি। এটি তো রাতারাতি হতে পারে না। তবুও এটিই ঘটছে।