যুদ্ধদিনের জীবন

Aug 21, 2015 04:36 am


নায়রুজ কারমুত
অনুবাদ : হোসেন মাহমুদ

অল্প সময়ই একটানা ঘুমাতে পারি। আসলে গাজার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই আর ঘুমানো হয়ে উঠছে না। তাই চোখ দু’টি জ্বালা করে, সারাক্ষণ মাথা ধরে থাকে, আর সীমাহীন দুশ্চিন্তা। যুদ্ধ কবে শুরু হয়েছে আর কত দিন চলছে, তার হিসাব গুলিয়ে ফেলেছি। একাকার হয়ে গেছে দিন আর রাত। প্রথম সকালের শান্ত মুহূর্তগুলোতে আমি সব কিছুর পরিবর্তে পাখির ডাক সম্পর্কে ভাবার চেষ্টা করি যা আমার কানে ভীতি ছড়ানো জঙ্গি বিমান, ড্রোনের গর্জন ও গুঞ্জনের প্রতিষেধক। ইহুদিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো যখন এসে পড়ে ও ভূমিকম্পের মতো বিস্ফোরিত হয় তখন ঘরের বিছানা ও জানালাগুলো কাঁপতে থাকে।


একটু ঘুমানোর আশায় সব ভাবনা-চিন্তা বাদ দেয়ার চেষ্টা করি। এ সময় আমার সাদা বিড়ালটি তুলতুলে লোমে ঢাকা শরীর নিয়ে বিছানায় উঠে আসে। নির্বোধ প্রাণীটির গোঁফ আমার মুখ স্পর্শ করে। আমার দু’ পায়ের কাছে সে ঘুরতে থাকে বুঝতে পারি খাবার চাইছে। ঝিমুনি ভাব সত্ত্বেও তাকে খেতে দেই। ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতিটি শক্তিশালী আঘাতের সাথে সাথে আতঙ্কিত বিড়ালটি এক লাফে টেবিল বা চেয়ারের নিচে গিয়ে আশ্রয় নেয়, এটা সে করে বাঁচার সহজাত অভ্যাসবশে। এ যুদ্ধ থেকে বিড়ালটিও নিজের প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করছে। সে বিপদ থেকে রক্ষা পেতে কোন দিকে দৌড়ায় তা দেখে আমি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত হানার স্থানটি বুঝতে পারি।


আমার একটি সুন্দর ক্যানারি পাখি আছে, কিন্তু অন্য পাখিগুলোর মতো সেটি কিচিরমিচির করে না। বিস্ফোরণের শব্দে পাখিটিও ভীত। তার সাথে আমি কথা বলার চেষ্টা করি। তার জন্য গান গাই যতক্ষণ না সে আমার আঙ্গুলে এসে বসে। তখন আমি বুঝতে পারি যে সে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে পেয়েছে।
রাতে ঘুমাতে পারিনি, তাই সকালে কয়েক ঘণ্টা ঘুমানোর সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু যতবারই আমি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার প্রচণ্ড শব্দ শুনি ততবারই অবচেতনভাবে বিছানার পাশে রাখা আইফোনটি তুলে নেই। ব্রাউজ করে খবর, সংবাদভাষ্য শুনি আর গাজায় যা ঘটছে তা নিয়ে মানুষের প্রতিক্রিয়া পড়ি। আমি নিশ্চিত হই যে ফেসবুকে আমার যেসব বন্ধু ও আত্মীয় আছে তারা ভালো আছে। সেসব নিবন্ধ পড়ি যেগুলোতে গাজার যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এবং সেগুলোর লিংক শেয়ার করি, কিন্তু আমার মিশ্র প্রতিক্রিয়া আমি বুঝতে পারি না। ভয়ার্ত প্রতিটি মুহূর্তে আমি দিনের আলোর দিকে তাকাই। আমি উপলব্ধি করি, পুনরাশ্বাস আমাকে ঘিরে ধরেছে। আমি জানি না, বোধ হয় এটাই জীবনের বিশ্বাস।


জঙ্গি বিমান, যুদ্ধ জাহাজ, ট্যাংকের বোমা ও গোলাবর্ষণের মধ্য দিয়ে ইসরাইল সরাসরি ঘোষণা না করেও গাজাবাসীদের ওপর অঘোষিত কারফিউ আরোপ করেছে। রাস্তায় চলাফেরা করা বা বাড়ির বাইরে গেলে বিপদ ঘটার আশঙ্কায় আমি বাড়িতেই অবস্থান করছি। আমার মনে হয়, আমি একটি ছোট কারাগারে আছি। তাদের মত, যারা ইসরাইলিদের কারাগারে আটক রয়েছে। আমি একটি সুন্দর ও অর্থবহ দিন কাটানোর চেষ্টা করি। হাঁটতে ভালোবাসি, তাই বাড়ির মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটি। মেঝের টাইলসগুলো গুনি। আমার চিন্তাগুলোকে সংগঠিত করি। আমার একটি পৃথিবীর কথা কল্পনা করি। কী ঘটছে, ভাবি। কোনো কোনো সময় হাঁটতে গিয়ে লেখার চিন্তা মাথায় আসে। হেঁটে জানালার পাশে গিয়ে বসি। রাস্তার দিকে, সাগরের দিকে, সাগরের কাছে আকাশের রঙের দিকে তাকাই। গভীরভাবে শ্বাস নেই এবং স্বস্তি বোধ করি যে এখনো আমার সৌন্দর্যবোধ আছে।


সম্প্রতি বিয়ে করা আমার ভাইয়ের মেয়ের বয়স চার মাস। আমি তার সাথে রোজই অনেকক্ষণ ধরে খেলা করি। শিশুটি ভারি মিষ্টি। তার চোখ দু’টি উজ্জ্বল। খুব হাসে, মনে হয় পৃথিবীকে হাসিতে ভরিয়ে দেবে সে। দু’দিন আগে সে বুঝতে পেরেছে যে তার চার পাশে যা আছে তা সে ধরতে পারে। আমার হাত আঁকড়ে ধরে সে। ব্যাপারটা আমাকে খুব আনন্দ দেয়। কিন্তু কাছেই কোথাও যখন বোমা পড়ে, তখন খুদে শিশুটি আমার হাত জোরে আঁকড়ে ধরে। তারপর শব্দটি মিলিয়ে যেতেই তার হাসি ফিরে আসে। তার জন্য আমি ভীত হয়ে উঠি। অনেকক্ষণ তাকে জড়িয়ে ধরে থাকি। সে সত্যিই এক আশ্চর্য শিশু যে ভয় কী তা জানে না।


বিদ্যুৎ না থাকাটা এখন নিয়মিত ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। আমরা ইলেকট্রিক জেনারেটর ও ইউবিএস ব্যাটারির মাধ্যমে সে ঘাটতি পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করি। গাজা যুদ্ধের সরাসরি সম্প্রচার, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামত ও সংঘটিত ঘটনা বিষয়ে আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি জানার জন্য টেলিভিশন খুলি। কিছুক্ষণের মধ্যেই ক্লান্ত হয়ে পড়ি। সেই একই চর্বিত চর্বণ। যেই আমি গাজার গণহত্যা ও রক্তপাত দেখি সাথে সাথে আমার মন খারাপ হয়ে যায়। কেঁদে ফেলি। তবে দ্রুতই শান্ত হয়ে আসে মন। টিভি বন্ধ করে দিই।


স্থানীয় স্টেশনগুলোর খবর শোনার জন্য রেডিও খুলি। সংবাদদাতারা সরেজমিন খবর সম্প্রচার করছে। তারা পাঠ করছে আহত ও নিহতদের নাম। তারা বিপ্লবী গান প্রচার করে। আমি আব্বার সাথে কথা বলি। ফিলিস্তিনের ইতিহাস সম্পর্কে তিনি গভীর জ্ঞান রাখেন। কী ঘটতে পারে, আমরা তা অনুমান করার চেষ্টা করি।


আম্মাও গাজা পরিস্থিতি আলোচনা করতে খুব আগ্রহী। তিনি তার আইপ্যাড ব্যবহার করে সামাজিক মাধ্যমে কী ঘটছে সে বিষয়ে উপসংহারমূলক মত ব্যক্ত করেন। এটা রমজান মাস। এ মাসে আমাদের মধ্যে নানা রকম সুস্বাদু খাবার তৈরি করা হয়ে থাকে। আমার মা যখনি কোনো বিপদ দেখেন তখনি তিনি বিরল মসলা দিয়ে চমৎকার খাবার তৈরি করেন। তিনি দামেস্কের মেয়ে। সেখান থেকে ভালো রান্না শিখেছেন। ফিলিস্তিনি জনগণ যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে, তাদের লড়াই করার কথা তিনি আমাদের বলেন। তিনি ও আব্বা সে দিনগুলোর মধ্য দিয়ে এসেছেন। তারা দু’জনই ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থায় (পিএলও) যোগ দিয়েছিলেন। আম্মা বলেন, আমরা তখন তরুণ ছিলাম। আমাদের সব শক্তি দিয়ে প্রতিরোধের লড়াই করেছিলাম।


আমাদের হাউজকিপার কাজে আসেনি। তার বাড়ি অনেক দূরে, রাস্তাটাও বিপজ্জনক। তারও একটি ছোট পরিবার আছে। আমার বোন ও আমি বাড়ি পরিষ্কারের কাজ শুরু করি। আমি মেঝে পরিষ্কার ও ঝকঝকে রাখতে ভালোবাসি। এ কাজ করতে গেলে আমার মনে হয় মনটাও পরিষ্কার হয়ে যায়। বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বাড়ির আসবাবপত্রে প্রতিদিন ধুলো ময়লার আস্তরণ জমে। বোমা বিস্ফোরণের ফলে দরজা-জানালা বন্ধ ঘরের মধ্যে যাতে বাতাসের চাপ সৃষ্টি না হয় সে জন্য আমরা সব জানালা খোলা রাখি। বিদ্যুতের অভাবে আমাদের এসি ও ফ্যান বন্ধ রাখতে হয়। তার ওপর গ্রীষ্মকালের প্রচণ্ড গরম। গাজায় এখন গাছপালা বেশি দেখা যায় না। বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বেশির ভাগই ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে উষ্ণতা বেড়েছে এবং সাগর তীরে হওয়ায় বাতাসের আর্দ্রতাও বৃদ্ধি পেয়েছে।


কাপ ও গ্লাসগুলো পালিশ করতে আমার ভালো লাগে। আমি আমার মধ্যে শান্তি ও স্থিরতার সন্ধান করি। কাপবোর্ডে রেখে দেই কাপগুলো। টিভিতে আমার ভাইদের সাথে বসে রমজানের অনুষ্ঠান দেখি। চ্যানেলগুলো আমাদের কাছ থেকে যুদ্ধের ভয়াবহতা ও বীভৎসতা দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করছে যা কিনা আমাদের চলাফেরা, স্বপ্ন ও আশা-আকাক্সক্ষাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে।


আমার ভাই নারগিলাহ (হুকা, সিসা) সেবন করতে ও গিটার বাজাতে ভালোবাসে। নারগিলাহর পানি থেকে সৃষ্ট শব্দ ও তামাকের ধোঁয়ার মিষ্টি ঘ্রাণ আমার ভালো লাগে যদিও তা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো না। আমার চাচার কথা মনে পড়লে মনটা বিষণœ হয়ে ওঠে। তিনি আমাদের নারগিলাহ প্রস্তুত করা শেখাতেন। গত বছর একটি ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে চাচা নিহত হন। অসলো চুক্তির পর গাজা ফিরতে পেরে চাচা খুব খুশি হয়েছিলেন। দেশ থেকে জোর করে বিতাড়িত করায় বিশ বছরেরও বেশি সময় তিনি আমার আব্বাকে দেখতে পাননি। প্রথম দেখায় আমাকে তিনি জড়িয়ে ধরে আদর করেছিলেন।


আমি ডেজার্ট তৈরি করতে ভালোবাসি। রমজানে আমরা কাতায়েফ নামে এক বিশেষ ধরনের ডেজার্ট তৈরি করি। এটা হলো একটি প্যানকেক যাতে মাখন লাগিয়ে ক্রিম ভরে তার ওপর পেস্তাবাদাম ছড়িয়ে মধু ও গোলাপপানির ছিটা দেয়া হয়। যারা সব কিছু হারিয়েছে, যাদের খাবার নেই, তাদের কথা মনে করে আমাদের মন ভারি হয়ে ওঠে। তাদের জন্য আমরা বেশি করে প্রার্থনা করি। এ দুরবস্থাময় পরিস্থিতিতেও রমজানের সৌন্দর্য ম্লান হোক তা আমি চাই না। আমাদের বেঁচে থাকতে হবে।


গরমের প্রচণ্ডতার জন্য আমি কয়েকবার গোসল করি। পানি ও সাবানের ফেনা ভালো লাগে আমার। আমরা যদিও বিশেষ ধরনের যন্ত্র দিয়ে কয়েকবার পরিশোধন করা পানি ব্যবহার করি তারপরও তা দূষিত থেকে যায়। ইসরাইল আমাদের পানি চুরি করেছে। আমি তাদের কথা ভাবি যারা গৃহহীন হয়েছে এবং যারা এমনকি গোসলের অনুমতিও পায় না। কোনো পানি জোটে না তাদের। তাদের ঘুমানোর জন্য কোনো বিছানা নেই। সাহায্য সংগঠনগুলোর মাধ্যমে আমরা তাদের জন্য কাপড়, টাকা, খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দেয়ার চেষ্টা করি। আমি জানি তারা শান্তিতে নেই। তারা বাড়িঘরই শুধু হারায়নি, তাদের জীবনের ছন্দও হারিয়ে গেছে। আল্লাহর কাছে শোকর যে আমাদের এখনো বাড়ি আছে। ঘরবাড়ি হারানো মানুষগুলোর জন্য আমার বুক ব্যথায় টনটন করে।


আমি লিখি আর লিখি। ডায়রি লিখি, অথবা একটি রাজনৈতিক প্রবন্ধ, অথবা একটি গদ্য কবিতা, অথবা একটি ছোটগল্প। যা ঘটছে তাতে আমি ক্রোধে ফেটে পড়ি। আমার জনগণ বাঁচা ছাড়া আর কিছু চায় না। আমি দেখতে পাচ্ছি বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন শহর আমাদের সাথে সংহতি প্রকাশ করছে। আমি পুনরায় আশ্বস্ত বোধ করছি যে প্রকৃত মানবতা এখনো ক্ষয় হয়ে যায়নি। দেশে ও বিদেশে বহু বন্ধু আমরা কেমন আছি তা জানার জন্য ফোন করছে। তারা আমাদের মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা জানতে চাইছে, তোমরা সবাই কী করছ? আমরা সব সময় বলি, আমরা ভালো করছি। কিন্তু বাস্তবতা হলো গাজা ভালো নেই। আমরা যে পর্যন্ত বেঁচে থাকার চেষ্টা করছি।


আমি আবার ঘুমানোর চেষ্টা করি, তবে খুবই সতর্ক রয়েছি। একটা কিছুর নড়াচড়ায় জেগে ওঠি। আমার ভাই সন্তর্পণে ঘরের মধ্যে ঢুকছে ও আমার কম্পিউটার চার্জারটি নিচ্ছে। মনে হয়, বিদ্যুৎ আবার চলে যাওয়ার আগেই সে তার সদ্ব্যবহার করতে চাইছে। সে অত্যন্ত সাবধানতার সাথে নড়াচড়া করলেও আমি ঠিকই টের পেয়েছি। হেসে ফেলে আবার ঘুমানোর চেষ্টা করি।


যুদ্ধকালীন এক রাতে আমাদের পরিবারের সবাই ও আমি অনুভব করি যে আমাদের শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। লোকজনের কাছে শোনা যাচ্ছিল যে ইসরাইলিরা বিষাক্ত গ্যাস ব্যবহার করছে। আমাদের সতর্ক করে দেয়া হয়েছিল যেন আমরা জানালা বন্ধ রাখি ও নাকের ওপর ভেজা কাপড় দেই। আমরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলাম যে বোমার ভয়ে জানালা খুলে রাখব নাকি বিষাক্ত গ্যাসের ভয়ে জানালা বন্ধ থাকবে। আমরা ঘুমাতে পারছিলাম না। বাড়িতে সবাই হাসছিল। আমার ভাই, বোন ও আমি বুঝতে পারছিলাম না যে কেন আমরা হাসছি। আমাদের মনে হচ্ছিল যে এটা লাফিং গ্যাস হতে পারে। এ রকম পরিস্থিতির মধ্যে আমাদের দিন কাটছিল।


আরেক রাতে ইসরাইলি দখলদার বাহিনী একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল। তারা অচিরেই আরো প্রচণ্ড বিমান হামলা শুরু করতে যাচ্ছে, এটা ছিল তারই আগাম হুঁশিয়ারি। সে হামলা শুরু না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘুমাতে না গিয়ে নিরাপত্তার জন্য বাড়ির মাঝখানে জড়ো হই। আমাদের কোনো নিরাপদ আশ্রয় ছিল না। কিন্তু ইসরাইলি হামলা বিলম্বিত হলো। আমরা অধৈর্য হয়ে উঠলাম। আমাদের মনে হচ্ছিল কই, কোথায় ইসরাইলি জঙ্গি বিমানগুলো! এসো, বোমা ফেলো আর আমাদের এই দুঃসহ সময় যাপনের অবসান ঘটাও। আমরা ঘুমাতে চাই।


ইসরাইলিরা আকাশ থেকে ফ্লায়ার ফেলে। তার মানে আমরা যেন বাড়িঘর ছেড়ে চলে যাই অর্থাৎ তারা আমাদের কিছু এলাকায় হামলা চালাবে। আমি ফ্লায়ারের প্রতি তাচ্ছিল্য প্রদর্শন করি। আমার কাছে গুরুতর আহত হওয়া অথবা আরেকটি গণ বিতাড়নের শিকার হওয়ার চেয়ে মৃত্যুই ভালো মনে হয়। আমি আমার নিজের বাড়িতে মরব। তবে শপথ করে বলছি, আমি জীবনকে ভালোবাসি।

 

 

নায়রুজ কারমুত

ফিলিস্তিনি লেখিকা ও সমাজকর্মী। ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তু পরিবারে ১৯৮৪ সালে দামেস্কে তার জন্ম। ১৯৯৪ সালে অসলোতে ইসরাইল-ফিলিস্তিন শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে ১৯৯৪ সালে পরিবারের সাথে গাজায় আসেন ও সেখানেই বাস করছেন। তিনি গাজার আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে তক ডিগ্রি লাভ করেন।


বর্তমানে তিনি গাজার মহিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে কর্মরত। রাজনীতি, সমাজ ও সাহিত্য বিষয়ে তার বহু লেখা বিভিন্ন সংবাদপত্র ও সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি নারী অধিকার বিষয়ে কয়েকটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য রচনা করেছেন। বিভিন্ন যুব উদ্যোগের সাথে তিনি সংশ্লিষ্ট ও ফিলিস্তিনের সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলনে জড়িত। গাজায় ইসরাইলের বর্বর হামলা চলাকালে নায়রুজ দিনপঞ্জি আকারে কিছু গল্প লিখেছেন।


২০১৪ সালের ৩১ জুলাই দিনটির পটভূমিকায় আরবিতে রচিত এ গল্পটি ইংরেজিতে ‘লাইফ ইন ওয়ার’ নামে অনূদিত ও পিইএন অ্যাটলাসে প্রকাশিত হয়। গল্পটিতে যুদ্ধকালীন গাজার মানুষের শ্বাসরুদ্ধকর দিনযাপনের আংশিক চিত্র উঠে এসেছে।