ভোটের রাজনীতির মৃত্যু

Jan 10, 2016 12:42 pm

 

আলফাজ আনাম

জনগণের অংশগ্রহণ বা সম্মতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনায় এখন পর্যন্ত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ও স্বীকৃত ব্যবস্থা। যে ব্যবস্থায় জনগণের মতামতের ভিত্তিতে নেতা নির্বাচন করা হয়। জনগণের এই মতামত আসে ভোটের মাধ্যমে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ভোটাররা নির্ধারণ করেন, কারা রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন। বাংলাদেশ এখন এমন এক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে উপনীত হয়েছে যেখানে ভোটাররা তাদের অধিকার প্রয়োগ করতে পারছে না। ভোটের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন বা স্থানীয় পর্যায়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন না। যদিও নির্ধারিত সময়ে ভোটের আয়োজন হচ্ছে এবং নেতা নির্বাচনও হচ্ছে। শুধু থাকছে না জনগণের ভোট দেয়ার ক্ষমতা।


জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য দেশে নির্বাচনের আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন। বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। বলা হয়েছে নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। সরকার কিংবা বিরোধী কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির প্রভাব নির্বাচন কমিশনের ওপর পড়বে না। নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচন কমিশনকে সংবিধান অনুযায়ী অনেক ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। যাতে সুষ্ঠু অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে।


বাংলাদেশের বর্তমান নির্বাচন কমিশন এ পর্যন্ত ৪টি নির্বাচনের আয়োজন করেছে। প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি। জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের এই নির্বাচনে ১৫৩ জন সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়। বাকি আসনগুলোতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫ শতাংশের মতো যদিও নির্বাচন কমিশন প্রায় ৪০ শতাংশের মতো ভোটার হাজির হয়েছিল বলে দাবি করেছে। এই নির্বাচনে সরকার যাদের মনে করেছে নির্বাচিত করা দরকার নির্বাচন কমিশন তাদের নির্বাচিত ঘোষণা করেছে। যেমন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তার মনোনায়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য চিঠি দিলেও তা গ্রহণ না করে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এরশাদকে নির্বাচিত করার জন্য সরকারের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের ইতিহাসে এমন নির্বাচন বিরল যেখানে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়।


এই নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার মেয়াদ আরেক দফা বেড়ে যায়। কিন্তু এই নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে। নির্বাচনের দিন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত স্পষ্টভাবে বলেন, এই নির্বাচনে তারা জনগণের কোনো ম্যান্ডেট পাননি। তাদের আরেকটি নির্বাচন দিতে হবে। সেই নির্বাচন আর আসেনি। এখন সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন, মেয়াদ পূরণের আগে আর কোনো নির্বাচন হবে না। গত ৫ জানুয়ারি সরকারের দুই বছর মেয়াদ পূরণ হয়েছে। ক্ষমতাসীন দল এই দিনটিকে সংবিধান রক্ষা দিবস হিসেবে পালন করেছে। অপর দিকে বিরোধী দল পালন করেছে গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসেবে। যেভাবেই দিনটিকে পালন করা হোক না কেন জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া, প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীনভাবে বা বিনাভোটে নির্বাচিত হয়ে দেশ পরিচালনা করা যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতাসীন হওয়া নয় তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ভোটের রাজনীতির মৃত্যু হয়েছে। সংবিধান রক্ষার নামে জবরদস্তিমূলক শাসনের নতুন উদহারণ সৃষ্টি করা হয়েছে। যার খেসারত নানাভাবে বাংলাদেশের মানুষকে দিতে হচ্ছে।


এই নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় আমরা পরের স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে দেখেছি। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হয় ছয় দফায় উপজেলা নির্বাচন। প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় কিছুটা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়। দু’টি নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা বেশির ভাগ উপজেলায় বিজয়ী হন। এরপর ক্ষমতাসীন দলের নেতারা তৎপর হয়ে ওঠে। ফলে পরবর্তী চার দফা নির্বাচনে ব্যাপক দাঙ্গাহাঙ্গামা ও ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটে। বিরোধী দলের প্রার্থীরা আর বিজয়ী হতে পারেননি। ৫ জানুয়ারি দ্বিতীয় দফা ক্ষমতারোহণের দুই মাসের মাথায় অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে জনমতের প্রতিফলন ঘটতে থাকে। প্রথম দুই দফার নির্বাচনের ফল ক্ষমতাসীনদের বিচলিত করে তোলে। পরবর্তী দফার নির্বাচনগুলোতে যেকোনো উপায়ে বিজয়ী হওয়ার নীতি গ্রহণ করা হয়। উপজেলাগুলো নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়। সুষ্ঠু নির্বাচনের জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পরও একজন নির্বাচন কমিশনার সাংবাদিকদের জানান আলহামদুলিল্লাহ। আমরা সন্তুষ্ট।


উপজেলা নির্বাচনে বিরোধী দল সমর্থিত প্রার্থীরা যাতে স্থানীয় সরকারে কোনো ভূমিকা রাখতে না পারেন সে জন্য সরকার নতুন এক কৌশলের আশ্রয় নেয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে বিরোধী দল সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যানদের বরখাস্ত করা হতে থাকে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে এই উপজেলা চেয়ারম্যানরা নাশকতার সাথে জড়িত ছিলেন। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বরখাস্ত করার মধ্য দিয়ে জনগণের ইচ্ছা ও আকাক্সক্ষাকে শুধু অবজ্ঞা নয়, ক্ষমতাসীন দল ছাড়া আর কারো বিজয়ী হওয়ার অধিকার নেই তা প্রতিষ্ঠা করা হয়।


উপজেলা নির্বাচনের পর ২৮ এপ্রিল ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা ও চট্টগ্রামে সিটি করপোরেশন নির্বাচন। নির্বাচনের আগেই সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ পুরোপুরি ভূলুণ্ঠিত হয়। নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত প্রার্থীরা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও প্রচার-প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি করলেও নির্বাচন কমিশন ছিল নিশ্চুপ। ভোটের দিন সকাল ৯টার মধ্যে সব কেন্দ্র ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। বিরোধী দল সমর্থিত প্রার্থীদের এজেন্টরা ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে পারেননি। দুপুরে বিরোধী দল সমর্থিত প্রার্থীরা ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয়। শুধু মেয়র নয়, একাধিক এলাকায় কাউন্সিলর প্রার্থীরাও ভোট বর্জন করেন। বিভিন্ন সরকারের সময়ে সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পন্ন হলেও এভাবে কেন্দ্র দখল করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। এর আগে বিএনপি সরকারের সময় ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। আবার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের এমন দলীয় অবস্থান আগে কখনো ঘটেনি।


নির্বাচন কমিশনের অধীনে সর্বশেষ ৩০ ডিসেম্বর সারা দেশে পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। নির্বাচনে যেভাবে জালিয়াতি, ভোটডাকাতি, এমনকি আগের রাতে সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভরানো হয়েছে। তাতে নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আরো বেশি হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। পৌরসভা নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন শুরু থেকেই ভোটের পরিবেশ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিরোধী দলের প্রার্থীরা অনেক কেন্দ্রে এজেন্ট দিতে পারেননি। কারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গ্রেফতার অভিযান এবং ক্ষমতাসীনদের নির্যাতনের ভয়ে অনেক ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট হতে কেউ সাহস করেননি। ভোটের দিন বেলা ১টার মধ্যেই শতভাগ ভোট পড়ার অদ্ভুত রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। দেশের ১৩৭টি পৌরসভায় ৭৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে, যা ছিল অস্বাভাবিক ঘটনা। এই নির্বাচনে জালিয়াতি তথ্য প্রমাণ দিয়ে হাজির করার দরকার পড়ে না। খোলা চোখে তাকালেই বোঝা যায়, কেন্দ্র দখলের ভোট সম্পন্ন হয়েছে। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক দিক হচ্ছে, নির্বাচন কমিশন এরপরও সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের দাবি করেছে। এভাবে সহিসংতা, জালিয়াতি আর ভোটডাকাতির পর সারা নির্বাচনের ফলাফল দাঁড়িয়েছে ২২৭টি পৌরসভার মধ্যে ১৭৭টিতে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগ। ২২টিতে বিএনপি, স্বতন্ত্রসহ অন্যান্য ২৭ এবং সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি একটিতে বিজয়ী হয়েছে। স্বতন্ত্র ২৭ জনের মধ্যে জামায়াতের দুইজন প্রার্থী বিজয়ী হয়েপ্রণ। নির্বাচন কমিশন দাবি করেছে ৭৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। শুধু তাই নয়, ১২টি পৌরসভায় ক্ষমতাসীন দল ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছে। এর মধ্যে এমন কয়েকটি পৌরসভা আছে যেখানে সবসময় বিরোধীদল সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছে। ভোটের এই চিত্র দেখে মনে হয়, বিএনপি জামায়াত প্রভাবিত এলাকার লোকজন সবাই আওয়ামী লীগের সমর্থক বনে গেছেন। জনমত বদলে দেয়ার অবিশ্বাস্য এক খেলায় মেতে উঠেছে নির্বাচন কমিশন। যেখানে ভোটাররা হয়ে পড়েছেন অসহায়।


নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের নামে যে তামাশার আয়োজন করেছে, তাতে মূলত গণতন্ত্রই পরাজিত হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন হলে সাধারণ মানুষ উৎসাহ হারিয়ে আর ভোটকেন্দ্রমুখী হবে না। এভাবে দেশজুড়ে ভোট সম্পন্ন হওয়ার পর সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকীবউদ্দিন আহমদ দাবি করেন বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণভাবে ভোট সম্পন্ন হয়েছে। তার এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে কলঙ্কিত ও জালিয়াতির নির্বাচনে বর্তমান নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশের ভোটের রাজনীতির ইতিহাসে রেকর্ড সৃষ্টি করে ফেলেছেন।


অতীতে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচন করেছে। তাতে এভাবে নির্বাচন কমিশন ক্ষমতাসীনদের বিজীয় করার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেনি। বরং সুষ্ঠুভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করে কমিশন ভাবমর্যাদা বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু বর্তমান নির্বাচন কমিশন আগের নির্বাচন কমিশনের চেয়েও ব্যতিক্রমী অবস্থান নিয়েছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনারদের চেয়ে অনেক কম বিতর্ক সৃষ্টি করেও বিচারপতি এম এ আজিজকে মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে চরম সম্মানহানি করা হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বর্তমান নির্বাচন কমিশন মানুষের ভোটাধিকার হরণের নির্বাচনকে অনেকটা প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। নির্বাচন কমিশন পুরোপুরিভাবে একটি দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে গেছে যে, পৌরসভা নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের সাথে দল মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা শুরু হলে নির্বাচন কমিশন প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


প্রকৃতপক্ষে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর সরকার একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠাকে সামনে রেখে যে কৌশল গ্রহণ করে তার প্রধান লক্ষ্য ছিল স্থানীয় সরকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। বিভিন্ন দেশে কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলো তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষমতার ভিত শক্তিশালী করতে এভাবে নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করেছে। উপজেলা নির্বাচন থেকে সর্বশেষ পৌরসভা নির্বাচনেও সরকার সেই পুরনো কৌশল গ্রহণ করেছে। জালিয়াতি ও ভোটডাকাতির পরও নির্বাচন কমিশনের নির্লিপ্ত ভূমিকার কারণ ছিল সরকারের এই এজেন্ডা বাস্তবায়নে সহায়তা করা। বলতেই হবে সরকারের সহায়কশক্তি হিসেবে নির্বাচন কমিশন সফল হয়েছে। কিন্তু এর মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ তাদের অধিকার হারিয়েছে। ১৯৯০ সালে স্বৈরশাসকের পতনের পর ব্যালটের মাধ্যমে দেশে সরকার পরিবর্তনের যে ধারাবাহিকতা সৃষ্টি হয়েছিল তার চূড়ান্ত বিলোপ ঘটিয়েছে বর্তমান নির্বাচন কমিশন। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন যেভাবে কেন্দ্র দখলের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে তাতে ভোটারদের শেষ অধিকার প্রয়োগের পথও রুদ্ধ করে দেয়া হলো। ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের এতদিনের বিশ^াস নষ্ট করে দিয়েছে সরকার ও নির্বাচন কমিশন।