ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে যুদ্ধের কোনো সম্ভাবনাই নেই

Mar 12, 2016 01:31 pm

 

সৌদি আরবের ডেপুটি ক্রাউনপ্রিন্স এবং দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মুহাম্মদ বিন সালমান গত ৪ জানুয়ারি ‘দি ইকোনমিস্ট’কে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী আলাপের অংশ হিসেবে তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকার দিলেন। তিনি বর্তমান সৌদি বাদশাহ সালমানের পুত্র। ‘সিংহাসনের পেছনে মুহাম্মদ বিন সালমানই প্রকৃত ক্ষমতাধর ব্যক্তি।


ইকোনমিস্ট : আসুন, আমরা প্রথমে সাম্প্রতিক মৃত্যুদণ্ডের ঘটনার ওপর আলোকপাত করি। সৌদি আরবে সন্ত্রাসী হামলার এত বছর পর এখন কেন এগুলো কার্যকর করা হলো? তাদের মধ্যে কেন আপনারা একজন বিশিষ্ট শিয়া আলেমকেও অন্তর্ভুক্ত করেছেন?
মুহাম্মদ বিন সালমান : প্রথম কথা হচ্ছে, সন্ত্রাসবাদের সাথে সম্পর্কিত অভিযোগে আইনি আদালতে এসব মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এরপর অতিক্রান্ত হয়েছে বিচারিক কার্যক্রমের তিনটি পর্যায়। দণ্ডিত ব্যক্তিরা নিজেদের আইনজীবী রাখার অধিকার পেয়েছেন। এই আইনজীবীরা সংশ্লিষ্ট বিচারিক কার্যক্রমের প্রতিটি পর্যায়ে আগাগোড়া উপস্থিত ছিলেন। আদালতের দরজা যেকোনো মিডিয়া ও সাংবাদিকের জন্য ছিল উন্মুক্ত। বিচারের পুরো কার্যক্রম এবং নথিপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি শিয়া, না সুন্নি আদালত এ ব্যাপারে কোনো পার্থক্য করেনি। আদালত অপরাধ পর্যালোচনা করেছে; নির্ধারিত পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে; বিচারে দণ্ড দেয়া হয়েছে; অবশেষে সে রায় হয়েছে কার্যকর।


প্রশ্ন : কিন্তু এসব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনা ইরানে সহিংস প্রতিক্রিয়ায় উসকানি জুগিয়েছে। সেখানে আপনাদের দূতাবাসে হামলা হলো। আপনারা ইরানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন; বাহরাইন ও সুদানও তা করেছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা এভাবে বেড়ে যাওয়ার ফলাফল কী দাঁড়াবে?
উত্তর : ইরানে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা আমাদের কাছে অদ্ভুত ব্যাপার বলেই প্রতীয়মান হয়েছে। সৌদি আরবে কোনো সৌদি নাগরিক অপরাধ করল, আর সে দেশের আদালত একটি সিদ্ধান্ত নিলো। এর সাথে ইরানের সম্পর্ক কী? যদি বিষয়টি কোনো কিছু প্রমাণ করে থাকে, তা হলো ইরান এ অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর তার প্রভাব বিস্তারে খুবই সচেষ্ট।


প্রশ্ন : ইরানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে আপনারা কি অযৌক্তিকভাবে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছেন?
উত্তর : বরং আমরা শঙ্কিত যে, উত্তেজনা আরো বৃদ্ধি পাবে। মনে করুন, ইরানে কোনো সৌদি কূটনীতিক কিংবা তাদের কারো পরিবার বা সন্তানের ওপর হামলা হলো। তখন ইরানের অবস্থান আরো জটিল হয়ে পড়বে। তাই আমরা ইরানকে এমন বিব্রতকর অবস্থায় পড়া থেকে বিরত রেখেছি। তেহরানে সৌদি দূতাবাসে আগুন দেয়া হয়েছে। ইরান সরকার এসব ঘটনা চেয়ে চেয়ে শুধু দেখছে। একটি শিশু, অথবা একজন কূটনীতিক কিংবা তাদের পরিবার যদি আক্রান্ত হতো, তখন কী ঘটতে পারত? তখন আমাদের প্রকৃত সঙ্ঘাত এবং প্রকৃত চরম উত্তেজনা দেখতে হবে।


প্রশ্ন : এসব কিছুর পরিণামে ইরান আর সৌদি আরবের মধ্যে সরাসরি সঙ্ঘাত সৃষ্টি হতে পারে বলে কি মনে করেন?
উত্তর : যদি এসব ঘটনার কথাই বলে থাকেন, তা হলে বলব এই দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরো বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য এগুলো কারণ হতে পারে বলে বিশ্বাস করি না। ইতোমধ্যেই ইরান উত্তেজনাকে চরমে তুলেছে। অপর দিকে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি যাতে পরিস্থিতির অবনতি আর না ঘটে। আমরা শুধু আমাদের বিরুদ্ধে নেয়া পদক্ষেপগুলোর মোকাবেলা করছি।


প্রশ্ন : ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রত্যক্ষ যুদ্ধ বেধে যাওয়া কি সম্ভব?
উত্তর : এটা এমন বিষয় যার কোনো সম্ভাবনা আমরা দেখছি না। যারাই পরিস্থিতিকে সে দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তাদের মনমানসিকতা ঠিকভাবে কাজ করছে না। কারণ সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে কোনো যুদ্ধ বেধে গেলে তা হবে, এ অঞ্চলে একটি বড় ধরনের বিপর্যয়ের সূচনা। গোটা বিশ্বে এর জোরালো প্রভাব পড়বে। নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, আমরা এমন কোনো অঘটন ঘটতে দেবো না।


প্রশ্ন : আপনারা কি ইরানকে আপনাদের সবচেয়ে বড় শত্রু মনে করেন?
উত্তর : আমরা আশা করি, তা নয়।
প্রশ্ন : একটা ক্ষেত্রে আপনাদের দু’দেশের মধ্যে ‘প্রক্সি ওয়ার’ চলছে বলে মনে করা যায়। তা হচ্ছে, ইয়েমেন। আপনি তো ইয়েমেন যুদ্ধের স্থপতি। এর অবসান কবে হবে?
উত্তর : সর্বপ্রথমে বলতে হয়, আমি ইয়েমেন অভিযানের স্থপতি নই। আমাদের দেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আছে। ইয়েমেনে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা এই দু’টি মন্ত্রণালয়, সেই সাথে গোয়েন্দা বিভাগ, মন্ত্রিপরিষদ এবং নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিষয় সম্পর্কিত পরিষদের ব্যাপার। এসব প্রতিষ্ঠানের সুপারিশগুলো মহামান্য বাদশাহর কাছে পেশ করা হয়। এরপর তিনিই সিদ্ধান্ত নেন পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে আমার কাজ হলো তার সিদ্ধান্তমাফিক যা আদেশ দেবেন, এর বাস্তবায়ন। যা কিছু হুমকি বলে মনে করব, সে সম্পর্কে জানাবো। এর মোকাবেলায় প্রস্তুতি নেয়াও আমার দায়িত্ব।


প্রশ্ন : ইয়েমেন অভিযানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে আপনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিযুক্ত হওয়ার অল্প পরেই। এই অভিযানের সমাপ্তি কখন হবে বলে আপনার প্রত্যাশা?
উত্তর : আমি প্রতিরক্ষামন্ত্রী হওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়ে বলব আমরা কেন ভুলে যাই যে, সৌদি আরবে বর্তমান বাদশাহ দায়িত্ব নেয়ার পর হুথি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের রাজধানী সানাতে ক্ষমতা দখল করে নেয়। আমার মন্ত্রী হওয়ার সাথে ইয়েমেনে অভিযানের কোনো সম্পর্কই নেই। হুথিরা যা করেছে, সম্পূর্ণরূপে সেটাই কারণ এই অভিযানের। এ মুহূর্তে আমাদের সীমান্তের মাত্র ৩০-৫০ কিলোমিটার দূরে ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন রয়েছে। এসব মিসাইলের লক্ষ্যভেদ করার আওতা সাড়ে পাঁচ শ’ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত করা যায়। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইয়েমেনি মিলিশিয়াদের। ওরা আমাদের সীমান্তে মহড়া দিয়ে যাচ্ছে। ইতিহাসে এবারই প্রথম দেখা যাচ্ছে, মিলিশিয়ারা সৌদি সীমান্তের কাছে যুদ্ধবিমানেরও অধিকারী। এই বিমানগুলো তারা এডেনে নিজেদের জনগণের বিরুদ্ধে হামলায় ব্যবহার করছে। পৃথিবীতে কি এমন দেশ আছে, যারা তাদের সীমান্তে এমন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত মিলিশিয়ার উপস্থিতি মেনে নেবে? বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয়, তারা জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করেছে এবং আমাদের জাতীয় স্বার্থের প্রতি প্রত্যক্ষ হুমকি হয়ে উঠেছে। আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের ব্যাপারে। ২০০৯ সালে তাদের সম্পর্কে আমরা মন্দ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। (ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বে) যেসব অপারেশন চালানো হয়েছে, সেগুলোর প্রতি জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের সমর্থন রয়েছে।
প্রশ্ন : যখন অপারেশন শুরু হলো, অনেকেরই আশা ছিল, দ্রুত এটি সম্পন্ন হবে। এরপর এখন দশ মাস চলছে। তা হলে আপনারা কি সামরিক দিক থেকে চোরাবালিতে আটকা পড়েছেন?
উত্তর : না, আমাদের ভিন্ন লক্ষ্য ছিল। ইয়েমেনে উবপরংরাব ঝঃড়ৎস নামের অভিযানের প্রথম লক্ষ্য ছিল, মিলিশিয়াদের মূল সক্ষমতাকে নস্যাৎ করে দেয়া। এর মধ্যে ছিল বিমান হামলা ও প্রতিরক্ষার সামর্থ্য এবং মিসাইল ভাণ্ডার। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল, তাদের ৯০ শতাংশ মিসাইল ধ্বংস করে দেয়া। এরপর ইয়েমেন সঙ্কটের রাজনৈতিক সুরাহার প্রক্রিয়ার সূচনা করেছি আমরা। সেটা সম্পূর্ণ ভিন্ন অধ্যায়। আমাদের সব প্রয়াসই ছিল ইস্যুটির রাজনৈতিক মীমাংসার জন্য চাপ দেয়ার উদ্দেশ্যে। এর অর্থ এটা নয় যে, আমরা মিলিশিয়াদের তৎপরতা বাড়ানোর সুযোগ দেবো। তাদের অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে, রাজনৈতিক সমাধানের ক্রমশ নিকটবর্তী না হলে তাদের হারতে হবে যুদ্ধক্ষেত্রে।


প্রশ্ন : এতে কত দিন লাগবে?
উত্তর : কেউ আগে থেকে তা বলতে পারেন না। যুদ্ধের ব্যাপারে সেরা জেনারেল হোন আর সাধারণ সেনাপতি হোন, কারো পক্ষে তা বলা সম্ভব নয়। আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি দায়েশকে (আইএস)। কখন তাদের পর্যুদস্ত করা যাবে, তা বলা যায় না। তবে যা বলতে পারি, তা হলো দশ মাস আগে এডেনের অর্ধেকটাই ছিল ইয়েমেন সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। অথচ এখন দেশটির ৮০ শতাংশই বৈধ সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জোর দিয়ে বলতে চাই, হুথিদের খেলার গোমর দুনিয়া ফাঁস করে দিয়েছে; বিশেষত মানবিক সাহায্য নিয়ে তাদের খেলাটি।


প্রশ্ন : আপনি (মন্ত্রিসভায়) অর্থনীতির দায়িত্বও পালন করছেন। এবার বাজেট প্রসঙ্গে আসা যাক। তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৩৫ ডলার (পরে দাম আরো কমেছিল অনুবাদক)। এ দিকে ২০১৫ সালে আপনার দেশের ঘাটতি হয়েছে জিডিপির ১৫ শতাংশ। সৌদি আরব কি অর্থনৈতিক সঙ্কটের মুখোমুখি?
উত্তর : আমরা এ ধরনের সঙ্কট থেকে অনেক দূরে। ’৮০ ও ’৯০-এর দশকে যত দূরে ছিলাম, এখন আরো দূরে। বিশ্বে তেলের তৃতীয় বৃহত্তম রিজার্ভ আছে আমাদের দেশে। তেল খাতের বাইরে থেকে আমরা শুধু গত এক বছরেই রাজস্ব বাড়াতে সক্ষম হয়েছি ২৯ শতাংশ। আগামী পাঁচ বছরের জন্য সুস্পষ্ট কর্মসূচি আমাদের আছে। এর কিছু ঘোষণা করা হয়েছে; বাকিগুলোর ঘোষণা দেয়া হবে নিকট ভবিষ্যতে। তা ছাড়া আমাদের ঋণ ও জিডিপির অনুপাত মাত্র ৫ শতাংশ। অতএব, অর্থনৈতিক শক্তির সব কিছুই আমাদের রয়েছে।


প্রশ্ন : তেলের বাইরের খাতের রাজস্ব কিভাবে বাড়াবেন? ভ্যাট প্রবর্তন করা হবে? আপনারা কি আয়কর চালু করবেন?
উত্তর : কোনো আয়কর বা সম্পদকর আরোপ করা হবে না। আমরা ভ্যাটসহ কোনো কোনো করের ব্যাপারে আলোচনা করছি যার পেছনে নাগরিকদের রয়েছে সমর্থন। এ ছাড়া খনিজ সম্পদের দিক দিয়ে আমাদের রয়েছে বহু সুযোগ। বিশ্বের মোট ইউরেনিয়ামের ৬ শতাংশের বেশি আছে সৌদি আরবে। অনেক সম্পদ আজো ব্যবহার করা হয়নি। কেবল মক্কাতেই পড়ে আছে চার মিলিয়ন বর্গমিটার অব্যবহৃত রাষ্ট্রীয় ভূমি। বাজারে দাম খুব বেশি আমাদের বহু সম্পদই বিনিয়োগের কাজে লাগানো যায়। আমাদের বিশ্বাস, সামনের পাঁচ বছরে আমরা তেলবহির্ভূত খাত থেকে এক শ’ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আদায় করতে পারব।


প্রশ্ন : রাজস্ব বাড়ানোর জন্য আপনারা বেসরকারি খাতে কী কী হস্তান্তর করবেন?
উত্তর : স্বাস্থ্য পরিচর্যা, শিক্ষা খাত, সামরিক শিল্প এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কিছু কোম্পানি। এতে সরকারের ওপর চাপ কমবে এবং এগুলোর কয়েকটি বেশ লাভজনক হতে পারে।


প্রশ্ন : সৌদি ‘অ্যারামকো’র শেয়ার বিক্রির কথা ভাবতে পারেন কি?
উত্তর : আগামী পাঁচ মাসের মধ্যে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এ বিষয়ে উৎসাহী। সৌদি বাজার, অ্যারামকো ও অধিক স্বচ্ছতার স্বার্থে এবং দুর্নীতি যদি থাকে, এর মোকাবেলায় অ্যারামকোর শেয়ার বিক্রি দরকার।


প্রশ্ন : সৌদি অর্থনীতির তেলনির্ভরতা কমানোকে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ জন্য অর্থনীতিকে বহুমুখী করতে কোন কোন খাত অগ্রাধিকার পাবে?
উত্তর : খনি এবং ভর্তুকি সংস্কার। এখন ভর্তুকি দ্বারা উপকৃত হচ্ছে মধ্য ও নিম্নবিত্ত মানুষের মাত্র ২০ শতাংশ। তাদের ৮০ শতাংশকে ভর্তুকির মাধ্যমে উপকৃত করাই আমাদের লক্ষ্য। তাদের স্বার্থ রক্ষা করা হলে অনেক রাজস্ব আসবে। আমাদের অব্যবহৃত সম্পদের মধ্যে আছে ধর্মীয় পর্যটন। যেমন মক্কা-মদিনায় পর্যটক ও তীর্থযাত্রী বাড়াতে পারলে নগর দু’টিতে রাষ্ট্রীয় ভূমির মূল্য বেড়ে যাবে।


প্রশ্ন : আপনাদের বাজেটে বিদ্যুৎ ও গ্যাসোলিনের দাম বেড়েছে। তবে এখনো অনেক ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে। এর কি সম্পূর্ণ অবসানের লক্ষ্য আপনারা গ্রহণ করেছেন?
উত্তর : স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ভর্তুকি থাকবে। তবে জ্বালানির মূল্য কমানো হবে না। আমাদের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কিছু সম্পদের ব্যাপারে কাজ চলছে। যেমন জেদ্দার উত্তরে প্রায় এক শ’টি দ্বীপ আছে একসাথে। সেখানকার তাপমাত্রা চমৎকার। তা জেদ্দার চেয়ে ৫ থেকে ৭ ডিগ্রি কম। গত ৮টি ছুটির দিন সেখানে কাটিয়েছি। এই ভূমি সংরক্ষণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর দৈর্ঘ্য ৩০০ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ২০০ কিলোমিটার। জেদ্দায় একটা জায়গা আছে যার পরিমাণ ৫ মিলিয়ন বর্গমিটার। জেদ্দার প্রাণকেন্দ্রের জায়গাটি সৈকতে অবস্থিত। বিমানবাহিনীর এই ভূমির দাম ১০ বিলিয়ন ডলার। এখান থেকে সব কাঠামো ও ভবন স্থানান্তরে খরচ হবে ৩০০ মিলিয়ন ডলার। পাঁচ বছরে রাষ্ট্রের কোষাগারে নতুন নতুন সম্পদ আনার লক্ষ্য রয়েছে। এই সম্পদগুলোর দাম ৪০০ বিলিয়ন ডলার।


প্রশ্ন : এটা কি সৌদি আরবের জন্য ‘থ্যাচার বিপ্লব’?
উত্তর : অবশ্যই। আমাদের বহু বড় বড় সম্পদ কাজে লাগানো হয়নি আজো। আবার বিশেষ কয়েকটি খাতে আমরা খুব উন্নতি করতে পারি। যেমন পানির দিক থেকে আমরা সবচেয়ে গরিব দেশগুলোর একটি।


প্রশ্ন : একজন বিদেশী বিনিয়োগকারী কেন এখন সৌদি আরবে বিনিয়োগ করতে চাইবেন?
উত্তর : মুনাফা করতে পারা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এই সুযোগ দিয়ে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে চাচ্ছি। সংশ্লিষ্ট আইনকানুন ও বিধিবিধান ভালো হলে মুনাফার অবকাশ থাকে এবং বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। সৌদি আরবে বিদেশী বিনিয়োগ নতুন নয়। সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো এ দেশে কাজ করছে। যেমন বোয়িং, এয়ারবাস, জেনারেল ইলেকট্রনিকস, জেনারেল মোটর্স, সনি, সিমেন্স ইত্যাদি। প্রধান ব্যাংকগুলোর সবই সৌদি আরবে শাখা খুলছে। আমি বিশ্বের জন্য এখন উন্মুক্ত হচ্ছি না, আগে থেকেই আমি উন্মুক্ত।


প্রশ্ন : একট চ্যালেঞ্জ হলো সৌদি আরবের তরুণ জনগোষ্ঠী। আপনার দেশের জনসংখ্যার ৭০ শতাংশই ৩০ বছর এবং এর চেয়ে কম বয়স্ক। তাদের জন্য কিভাবে কর্মসংস্থান করবেন?
উত্তর : বেসরকারি খাতে আমরা চাকরির বিরাট সুযোগ সৃষ্টি করতে পারি। খনি ছাড়াও মক্কা-মদিনার ধর্মীয় পর্যটন খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান হতে পারে। বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগেও চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হবে। আমাদের বিশ্বাস, আগামী কয়েক বছরে কর্মসংস্থানের অভাব কমবে অনেকখানি। এখন সৌদি আরবে ১০ মিলিয়ন চাকরিতে নিয়োজিত রয়েছে বিদেশীরা। আমার পছন্দমতো যেকোনো সময়ে এই পদগুলোকে আমরা ব্যবহার করতে পারি। তবে বেসরকারি খাতকে চাপ দিতে চাই না শেষাবধি বাধ্য না হলে।


প্রশ্ন : পরিবর্তন প্রসঙ্গে আপনি বললেন তেলবহির্ভূত খাতের রাজস্ব সংগ্রহ, ভর্তুকি হ্রাস, বেসরকারি খাতের কর্মসংস্থানের কথা। অর্থাৎ, নানাভাবে সৌদি অর্থনীতি এবং সমাজের পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়া হবে। এসব কিছু কি সে সমাজটিতে বৃহত্তর পরিবর্তন আনতে বাধ্য করবে না, যা আজো খুবই রক্ষণশীল?
উত্তর : এ ক্ষেত্রে একটি বিষয় আরেকটির সাথে সম্পর্কিত নয় মোটেও। আমাদের নিজস্ব মূল্যবোধ আছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়া গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের কাছে আরো গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার। সৌদি সমাজের নিজস্ব উপাদান, মূল্যবোধ ও মূলনীতি রয়েছে। আমরা আমাদের চাহিদা মোতাবেক এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে থাকি। আমাদের আজকের পরিস্থিতি ৫০ বছর আগের মতো নয়। তখন আমাদের একটি আইনসভা পর্যন্ত ছিল না। এখন আমাদের পার্লামেন্টে নারীর উল্লেখযোগ্য প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। নারীরা ভোট দিতে পারবেন; তারা নিজেদের মধ্য থেকে প্রার্থী মনোনয়ন করছেন। আমরা অগ্রসর হচ্ছি নিজস্ব চাহিদা ও পদক্ষেপ অনুযায়ী। অন্য কোনো মডেলের প্রতি সাড়া দিয়ে এটা করা হচ্ছে না।


প্রশ্ন : আপনারা নানা ধরনের কর বসাচ্ছেন।
উত্তর : ভ্যাটের কথা বলছি আমরা। এটা কোনো প্রধান পণ্যের ওপর নয়; যা আনুষঙ্গিক পণ্যের ওপর আরোপিত হবে। পানি, দুধ, ডেইরি সামগ্রী ইত্যাদির ওপর এটা ধার্য হবে না যদি ভ্যাট এগুলোর দাম বাড়িয়ে দেয়।


প্রশ্ন : আপনারা জনগণের প্রতিনিধিত্ব না বাড়িয়ে কর বাড়াতে যাচ্ছেন।
উত্তর : আবারো বলব, এই একটি বিষয়ের সাথে অন্যটি সম্পর্কিত নয়। এটা জনগণের বিরুদ্ধে সরকারের সিদ্ধান্ত নয়; এটা সৌদি আরবের সিদ্ধান্ত। এ দেশের সরকার জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছে। সংস্কার আনার জন্য কোনো পদক্ষেপ নেয়ার আগে আমরা অনেকগুলো ওয়ার্কশপের আয়োজন করে থাকি, যা বহুলোকের প্রতিনিধিত্ব করে।


প্রশ্ন : সমাজের বৃহত্তর সংস্কারের খবর কী? যদি নারীরা গাড়ি চালানোর অনুমতি না পায়, বিনানুমতিতে না পারে ভ্রমণ করতে, তা হলে উচ্চ উৎপাদনশীল আধুনিক অর্থনীতি কিভাবে গড়বেন যেখানে পর্যটন শিল্প হবে সমৃদ্ধ; স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত হবে উন্নত?
উত্তর : নারী এখন ভ্রমণে যেতে পারে। তারা ব্যবসায় ক্ষেত্রেও কাজ করছে...
প্রশ্ন : তবে পরিবারের অনুমতি নিয়েই।
উত্তর : এটা ভিন্ন ব্যাপার। অনুমতির কথা আসে কেউ নির্দিষ্ট কোনো বয়সে না পৌঁছা পর্যন্ত। যে নারী নিজের ব্যাপারে দায়িত্বশীল, তার ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য নয়। এ বিষয়টির নিজস্ব সামাজিক ও ধর্মীয় বৈশিষ্ট্য রয়েছে। কিছু ব্যাপারে আমরা পরিবর্তন আনতে পারি। আর কিছু ব্যাপারে চাইলেও আমরা তা পারব না। তবে গ্যারান্টি দিতে পারি, নারীদের অংশগ্রহণ ও কাজের মাত্রা বাড়াতে কোনো বাধা নেই।


প্রশ্ন : তা হলে নারী কেন সৌদি শ্রমশক্তির মাত্র ১৮ শতাংশ? এটা তো বিশ্বের প্রায় সর্বনিম্ন হার এক্ষেত্রে।
উত্তর : এর কারণ, সৌদি কালচার ও সৌদি নারী। তাদের শ্রম দেয়ার অভ্যাস নেই। এতে অভ্যস্ত হতে সময় প্রয়োজন। এ দেশের নারীদের বিরাট অংশই ঘরে থাকতে অভ্যস্ত।
প্রশ্ন : শ্রমশক্তির একটা বড় অংশ নারী হলে তা সৌদি আরবের জন্য কল্যাণকর হবে বলে মনে করেন কি?
উত্তর : নিঃসন্দেহে মনে করি। আমাদের উৎপাদন উপকরণের একটা বড় অংশই অব্যাহত রয়ে গেছে। এ দিকে জনসংখ্যা বাড়তে বাড়তে পৌঁছে গেছে উদ্বেগজনক পর্যায়ে। নারীরা শ্রমশক্তির অংশ হলে এই দু’ক্ষেত্রেই তা অনুকূল ভূমিকা রাখবে।
প্রশ্ন : সৌদি নাগরিকদের ৭০ শতাংশই ৩০ বছর বা আরো কম বয়সী। আর আপনি আছেন দেশের প্রতিরক্ষা ও অর্থনীতির দায়িত্বে। আপনি নানাভাবে নতুন প্রজন্মের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন। কোন ধরনের সৌদি আরব আপনি গড়ে তুলতে চান?
উত্তর : আমি যে দেশ চাই, ৭০ শতাংশও সেটা চায়। সেটা এমন সৌদি আরব, যা তেলের ওপর নির্ভরশীল নয় এবং যার অর্থনীতি ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে; যে দেশের আইন স্বচ্ছ এবং যে দেশ বিশ্বে থাকবে শক্তিশালী অবস্থানে; যে দেশটি যেকোনো নাগরিকের স্বপ্ন ও আকাক্সক্ষা পূরণে সক্ষম; যে সৌদি আরব হবে টেকসই; যে দেশে সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রত্যেকের অংশ নেয়ার থাকবে গ্যারান্টি। এমন সৌদি আরব চাই, যে দেশ বিশ্বে উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে যেমন, তেমনি বিশ্বের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেবে। তরুণ হিসেবে আমার নিজের এবং জনগণের স্বপ্ন অনেক। একটি উন্নততর সৌদি আরব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমি তাদের এবং তাদের স্বপ্নের সাথে প্রতিযোগিতা করি। আবার তারাও প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয় আমার সাথে।


প্রশ্ন : আপনি সৌদি আরব নিয়ে খুবই ইতিবাচক স্বপ্ন তুলে ধরেছেন। এ দিকে আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি যখন এ অঞ্চল বহু বছর ধরে বিপজ্জনক সময় অতিক্রম করছে। এই দু’টি বিষয় মেলাবেন কী করে?
উত্তর : আপনি ব্রিটেনের মানুষ। আমি চার্চিলের ভক্ত। তিনি বলেছেন, সঙ্কটের সময়ই সুযোগ আসে।’ যখনই প্রতিবন্ধক বা সঙ্কট দেখি, তখনই স্মরণ করি এ কথা।
প্রশ্ন : এ অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর এ অঞ্চলের সঙ্কট কি আরো জটিল হয়ে উঠেছে?
উত্তর : যুক্তরাষ্ট্র কী করেছে, তা আমরা বুঝি। তারা অনেক চেষ্টা চালিয়েছে। আমরা তাদের, সব প্রয়াসেই সহায়তা করার চেষ্টা করি। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার জন্য আমরা চেষ্টা করে থাকি। আমাদের আর যুক্তরাষ্ট্রের মাঝে কাজের যে সম্পর্ক, তা খুব জোরালো ও চমৎকার। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে, তারা বিশ্বে এক নম্বর অবস্থানে আছে। তাই তাদের কাজ করতে হবে সে মোতাবেক।
প্রশ্ন : তারা কি সেভাবে কাজ করছেন না?
উত্তর : আমরা উদ্বিগ্ন, তেমন কিছু ঘটতে পারে।


প্রশ্ন : আপনি কি মনে করেন, তারা আপনাদের হতাশ করেছেন?
উত্তর : আমরা উপলব্ধি করি, আমাদের নিজস্ব প্রেক্ষাপট তাদের কাছে তুলে না ধরায় সমস্যা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমাদের প্রয়াস পর্যাপ্ত ছিল না। আমাদের বিশ্বাস, ভবিষ্যতে এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে।
প্রশ্ন : সৌদি আরব কি এ অঞ্চলে নতুন ধরনের নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছে?
উত্তর : এ অঞ্চলে আমরা আমাদের সব মিত্রের সাথে সমান পদক্ষেপে সম্পর্ক রেখে চলেছি। আমরা সবাই এখানকার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছি। আমরা মানে, সৌদি আরব এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলো, মিসর, তুরস্ক, সুদান, ‘আফ্রিকার শৃঙ্গ’র দেশগুলো, উত্তর ও পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলো, পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান। আমরা যৌথভাবে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার চেষ্টা করে থাকি। কারণ চ্যালেঞ্জগুলো আমাদের সবার জন্য হুমকি। তাই একটা টিম হিসেবে এর মোকাবেলা অবশ্যই করতে হবে।
প্রশ্ন : পাঁচ বছর আগে ‘আরব বসন্ত’ শুরু হয়েছিল। গত পাঁচটি বছর এ অঞ্চলের জন্য ছিল খুবই তিক্ত ঘটনাপূর্ণ। আগামী পাঁচ বছর এর চেয়ে ভালো না মন্দ হবে?
উত্তর : প্রথমেই বলব, ‘আরব বসন্ত’ ছিল কর্তৃত্বপরায়ণ কিংবা তা নয়- এ ধরনের সব রাষ্ট্রের জন্য একটি পরীক্ষা। এটা ছিল, জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার বনাম জনপ্রতিনিধিত্বহীন সরকার। নিজের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করত না, এমন যেকোনো সরকার আরব বসন্তের তোড়ে ধসে পড়েছে। অন্যদের ক্ষেত্রে কী ঘটেছে, তা আমরা দেখেছি।
প্রশ্ন : সৌদি পরিবার কি জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছে?
উত্তর : আমরা জাতীয় প্রক্রিয়ার অংশ। আমরা দেশের গোত্রগুলো এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অংশ। তিন শ’ বছর ধরে আমরা একসাথে কাজ করছি।
ইকোনমিস্ট : মান্যবর, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
মুহাম্মদ বিন সালমান : আপনাকেও। প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে আমি খুশি। আমরা সর্বদাই বন্ধুদের সমালোচনা গ্রহণ করে থাকি। আমরা ভুল করলে শোনা দরকার যে, আমাদের ভুল হয়েছে। তবে ভুল না হলে বন্ধুদের কাছ থেকে সমর্থনের আশ্বাস শোনা প্রয়োজন। অনুরোধ রইল, যা আপনি সত্যিই বিশ্বাস করেন, সেটাই বলুন।
ইকোনমিস্ট : আমরা সব সময়ই এটা করে থাকি।


বিপুল ক্ষমতার অধিকারী প্রিন্স মোহাম্মদ

প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ প্রসঙ্গে ওয়াকিবহাল মহল বলেছে, এই প্রাণবন্ত ব্যক্তি ‘সিংহাসনের আড়ালে’ বিপুল ক্ষমতার অধিকারী এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্র ইয়েমেনে বিদ্রোহী দমনের লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। একই সাথে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্সের পদে এই প্রিন্সের নিযুক্তিকে তার বিপুল সামর্থ্যরে স্বীকৃতি রূপে উল্লেখ করেছেন স্বয়ং বাদশাহ সালমান। বাদশাহ আরো বলেছেন, ‘যুবরাজ মোহাম্মদের ব্যাপক যোগ্যতা তাকে যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, তা পালনের মধ্য দিয়ে সবার কাছে প্রমাণিত।’
প্রিন্স মোহাম্মদের নিয়োগ এ কারণে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ যে, নতুন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফের কোনো ছেলে নেই। এতে ভবিষ্যতে একপর্যায়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স মোহাম্মদেরও বাদশাহ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাকে সশস্ত্র বাহিনীর দায়িত্ব অর্পণের বিষয়টি আনুগত্য পরিষদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন পেয়েছে। এ কমিটিতে আছেন রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল আজিজের ৩৫ জন বংশধর। বাদশাহ হিসেবে উত্তরাধিকারী নির্ধারণের জন্য ২০০৬ সালে এটি গঠিত হয়।
মোহাম্মদ অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন পরিষদের প্রধান হিসেবে আগের মতোই বহাল থাকবেন। একই সাথে তার নাম এবার ঘোষিত হলো দ্বিতীয় উপপ্রধানমন্ত্রী হিসেবেও। তবে রাজকীয় দরবারের প্রধান পদে তিনি আর থাকছেন না। এসব রদবদলের আগে পাশ্চাত্যের একটি কূটনৈতিক সূত্র বলেছিল, ‘প্রিন্স মোহাম্মদ হলেন সৌদি আরবের স্ট্রং ম্যান। দেশটিতে গুরুত্বপূর্ণ যা কিছুই হচ্ছে, তিনিই এগুলোর দেখাশোনা করেন।’
কৌতূহলের ব্যাপার হচ্ছে, কালো শ্মশ্রুশোভিত মোহাম্মদের প্রকৃত বয়স জানা যায়নি। বিশ্লেষকেরা এবং স্থানীয় মিডিয়া বিভিন্নভাবে বয়সের উল্লেখ করলেও কেউ বলেনি যে, তিনি ৩৫ বছরের বেশি বয়সী। যা হোক, তার এক দশকের অভিজ্ঞতা রয়েছে পেশাগত ক্ষেত্রে। তিনি প্রথমে ব্যবসায় এবং সমাজসেবায় নিয়োজিত ছিলেন। তরুণদের সাহায্য করার জন্য তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন মিসক ফাউন্ডেশন। ২০০৯ সালে বর্তমান বাদশাহ সালমান ছিলেন রিয়াদের গভর্নর। তখন ছেলে মোহাম্মদ নিযুক্ত হন তার বিশেষ সহকারী। ২০১৩ সালে সালমান যুবরাজ হিসেবে ঘোষিত হলে মোহাম্মদ তার পিতার দরবারের দায়িত্বভার প্রাপ্ত হন। ২০১৫ সালের এপ্রিলে তিনি কেবিনেট সদস্য হন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার আগে।