ভয়ের দেশ

Jun 02, 2016 08:48 am


আবু সালেহ আকন


গোটা দেশ এখন আতঙ্কে। শুধু শহরেই নয়, প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষও এখন চরম আতঙ্কে রয়েছেন। এক দিকে, একের পর এক হত্যা, অন্য দিকে, নিখোঁজ ও লাশ উদ্ধারের ঘটনা। এর মধ্যে জঙ্গিদের নয়া উত্থান। সব মিলিয়ে মানুষ এখন চরম ভীতিকর পরিবেশে দিনযাপন করছে। সামান্য দর্জি দোকানি থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। কেউ যেন খুনিদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। প্রকাশ্যে গুলি করে ও কুপিয়ে এসব হত্যার ঘটনা ঘটছে। অপর দিকে, রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ও লাশ হচ্ছেন অনেকে। এর মধ্যে বেশির ভাগই হচ্ছেন রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্তরা। কে বা কারা তুলে নেয়ার পর হয়তো কোনো একদিন তাদের লাশ মিলছে। আবার কেউ কেউ বছরের পর বছর নিখোঁজ রয়েছেন।


দেশজুড়েই এখন আতঙ্ক আর ভয়। অনেকেই বলেছেন, তিনটি কারণে তারা ভীতসন্ত্রস্ত। একের পর এক হত্যাকাণ্ড, এর মধ্যে রয়েছেন; বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র, ব্লগার, ধর্মীয় নেতা, বিদেশী নাগরিক, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন, এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন।


 গত ৩০ এপ্রিল টাঙ্গাইলের গোপালপুরে কুপিয়ে হত্যা করা হয় দর্জি দোকানি নিখিল চন্দ্র জোয়ার্দারকে। দোকান থেকে রাস্তায় নামিয়ে দুর্বৃত্তরা তাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন।


গত ২৩ এপ্রিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়, একই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পরমানন্দ রায় নামে এক সাধুকে একই কায়দায় চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে ঘাতকেরা। এক দিন পর
 গত ২৫ এপ্রিল রাজধানীতে কলাবাগানের লেকসার্কাসে নির্মমভাবে ইউএসএইডের কর্মকর্তা জুলহাজ মান্নান সুমন ও তার বন্ধু মাহবুব রাব্বী তনয়কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এভাবেই একের পর এক ঘটছে টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনা। কিন্তু এর কোনো ঘটনারই কূলকিনারা মিলছে না।


 গত ২০ মার্চ কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যারহস্য এখনো উদঘাটন হয়নি।
 গত ৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় রাজধানীর পুরান ঢাকায় ব্লগার ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাজিমুদ্দিনকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়।
 গত ২৩ এপ্রিল সকালে প্রকাশ্য দিবালোকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে খুন হন সাবেক প্রধান কারারক্ষী রুস্তম আলী। এর আগে ২২ এপ্রিল মধ্যরাতে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় কুপিয়ে ও গুলি করে দু’জনকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। গোপালগঞ্জে সাধু পরমানন্দ রায় হত্যা মামলায় পুলিশ শরিফুল শেখ নামের এক আসামিকে গ্রেফতারের পর সাত দিনের রিমান্ডে নিলেও কোনো রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী ও অধ্যাপক এ কে এম শফিউল ইসলাম লিলন হত্যা এবং বাগমারায় আহমদিয়া সম্প্রদায়ের মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলার দায় স্বীকারের খবর দিয়েছিল ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ’। কিন্তু ওয়েবসাইটে পাওয়া এ তথ্যগুলোকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ। অধ্যাপক রেজাউল করিম হত্যা ও বাগমারায় মসজিদে হামলার ঘটনা সম্পর্কে এখনো অন্ধকারে রয়েছে পুলিশ। ২০১৪ সালের ১৫ নভেম্বর অধ্যাপক শফিউল ইসলাম হত্যার ঘটনাকে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জের উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। দীর্ঘ সাত মাস অতিবাহিত হলেও পাবনার ঈশ্বরদী বিমানবন্দর সড়কের খ্রিষ্টান গির্জার যাজক লুক সরকারকে হত্যাচেষ্টা মামলার কোনো কূলকিনারা এখনো হয়নি। এ হত্যাপ্রচেষ্টার প্রধান আসামি জেএমবির পাবনার আঞ্চলিক কমান্ডার রাকিবুল ইসলাম রাকিব ওরফে তাওহিদ ওরফে রাজনসহ জেএমবির ছয় ক্যাডারকে পুলিশ গ্রেফতার করে।
 গত বছরের ১২ মে সকালে সিলেট নগরীর সুবিদবাজার বনকলাপাড়ার নূরানী দীঘির দক্ষিণ কোণে কুপিয়ে খুন করা হয় ব্লগার ও ব্যাংকার অনন্ত বিজয় দাশকে।


 গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ব্লগার অভিজিৎ রায়কে হত্যা।
 ৭ আগস্ট নিলাদ্রী চ্যাটার্জি ওরফে নিলয় হত্যা।
 ৩০ মার্চ তেজগাঁওয়ে ব্লগার ওয়াসিকুর রহমান বাবু হত্যা।
 ১২ মে সিলেটে ব্লগার অনন্ত বিজয় দাস হত্যা,
 ২০১৩ সালের ১৫ জানুয়ারি ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিনকে হত্যাচেষ্টা ও একই বছরের ১০ এপ্রিল বুয়েটের ছাত্র ও ব্লগার আরিফুর রহমান দীপুকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়।
 গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশানে গুলি করে হত্যা করা হয় ইতালিয়ান নাগরিক তাভেলা সিজারকে।
 এ ঘটনার ৬ দিনের মাথায় রংপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন জাপানি নাগরিক হোসিও কোনি।
 গত বছরের ৫ অক্টোবর রাতে রাজধানীর বাড্ডা থানার জ-১০/১ মধ্যবাড্ডার বাসায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয় পিডিবির সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মুহম্মদ খিজির খানকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি এ ঘটনার সাথেও জড়িত জঙ্গিরা।
 গত ২২ অক্টোবর রাজধানীর গাবতলীতে চেকপোস্টে এক পুলিশ সদস্যকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ইব্রাহিম মোল্লা নামের পুলিশের ওই এএসআইসহ ৭-৮ পুলিশ ও আনসার সদস্য চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ঘটনার সময় একজন ধরা পড়লেও অন্যরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলাটির তদন্ত এখন থেমে আছে।
 গত ২৪ অক্টোবর রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের হোসনী দালানে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দুইজন নিহত এবং অন্তত দেড় শ’ মানুষ আহত হন।
 গত ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যার পর বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার চককানু গ্রামে শিয়া সম্প্রদায়ের আল মোস্তফা নামের একটি মসজিদে সন্ত্রাসীদের গুলিতে মসজিদের মুয়াজ্জিন মোয়াজ্জেম হোসেন (৭০) নিহত এবং ইমামসহ তিনজন গুরুতর আহত হন।
 গত ১১ ডিসেম্বর দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার জয়নন্দ ডহচি গ্রামে ইসকন মন্দিরে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে রঞ্জিত চন্দ্র রায় এবং মিঠুন চন্দ্র রায় নামের দু’জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গত ৪ ডিসেম্বর রাতে কাহারোলের কান্তজিউ মন্দিরে রাসমেলায় বোমা হামলার ঘটনায় ৬ জন আহত হয়।
 ৩০ নভেম্বর রাতে চিরিরবন্দর উপজেলার রানীরবন্দরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে বীরেন্দ্রনাথ রায় নামে এক হোমিও চিকিৎসক আহত হন।
 ১৮ নভেম্বর দিনাজপুর শহরের বিআরটিসি বাস ডিপোর কাছে দুর্বৃত্তরা ডা: পিয়েরো পিচম নামে এক ইতালীয় নাগরিক গুলিতে আহত হন।


এর বাইরে দুর্বৃত্তদের হামলায় আরো অনেকে আহত হয়েছেন। এভাবে একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটেই চলছে। কিন্তু বেশির ভাগ ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করা যায়নি। এদিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা এবং তদন্তকারী সংস্থা ও গোয়েন্দাদের দাবি এ ঘটনাগুলোর বেশির ভাগের সাথেই জড়িত রয়েছে জঙ্গি সংগঠন বিশেষ করে জেএমবি ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্যরা। পুলিশের আইজি এ কে এম শহীদুল হক এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, জঙ্গি গোষ্ঠীর ঘটানো ৩৭টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ২৫টির সাথেই নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) জড়িত। আনসারুল্লাহ বাংলা টিম ৮টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত এবং বাকি ৪টি ঘটনা সন্ত্রাসী অথবা অন্যান্য জঙ্গি গোষ্ঠী ঘটিয়েছে। ৩৭টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে বিচার সম্পন্ন হয়েছে একটি মামলার। মূল ঘটনা উদঘাটিত হয়েছে ৩৪টি মামলার। এখনো ঘটনা উদঘাটন করা যায়নি তিন মামলার। এ তিন মামলাসহ বাকি ৩১মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।
ইন্সপেক্টর জেনারেল বলেন, ৩৭টি মামলার মধ্যে চার্জশিট দেয়া হয়েছে ৬টি মামলায়। এসব মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে ১৪৪ জনকে। তাদের মধ্যে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছেন ৪৯ জন।


এদিকে, নতুনভাবে জঙ্গি উত্থান নিয়ে শুরু হয়েছে নয়া আতঙ্ক। কয়েক বছর ধরেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্তারা দাবি করে আসছিলেন বড় ধরনের কোনো নাশকতা ঘটানো জঙ্গিদের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যেসব ঘটনা ঘটেছে তার বেশির ভাগের সাথে জঙ্গিদের জড়িত থাকার তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পর খোদ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরাই বলছে জঙ্গিরা নির্মূল হয়ে যায়নি। এমনকি, বিদেশের মাটিতেও বাংলাদেশী জঙ্গিদের তৎপরতায় দেশের বাইরেও এ নিয়ে আতঙ্ক চলছে। গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সিঙ্গাপুর থেকেই ফেরত পাঠানো হয়েছে ৩১ জনকে। যারা ওই দেশে বসে জঙ্গি তৎপরতার সাথে জড়িয়ে পড়েছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ১৯ জনকে গ্রেফতার করে ঢাকার পুলিশ ও গোয়েন্দারা। সিঙ্গাপুরে একই অভিযোগে আটজনের দুই বছর কারাদণ্ড হয়েছে। এদিকে, সিঙ্গাপুরে দুই দফায় জঙ্গি আটকের পর সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশীরাও চরম বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছে। তাদের মধ্যেও বিরাজ করছে ভীতি-আতঙ্ক।
এ দিকে, হত্যা এবং গুম অব্যাহত রয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন অনেক মানুষ। বেশির ভাগ পরিবারের দাবি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে তুলে নেয়ার পর তাদের স্বজন আর ফিরে আসেনি। আবার কারো কারো লাশ মিলেছে। সর্বশেষ গত মাসেও ঝিনাইদহে তুলে নেয়ার পর হত্যার শিকার হয়েছেন তিনজন। গত ২০ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গা থেকে উদ্ধার হয়েছে এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র সোহানুর রহমানের (১৬) লাশ। সে ঝিনাইদহ কালিগঞ্জ ঈশ্বররা গ্রামের মহসিন আলীর ছেলে। ডিবি পুলিশ পরিচয়ে গত ১০ এপ্রিল বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় সোহানকে। এরপর তার বাবা-মা সংবাদ সম্মেলন করে সোহানকে ফেরত দাবি করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে সরকার ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করা হয়। সোহানের বাবা-মা বলেছেন, তাদের সন্তান কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত ছিল না। ওই মাসেই আবুজর গিফারী ও শামিম হোসেন নামের আরো দুইজনের লাশ উদ্ধার হয়। গিফারী কালিগঞ্জের চাপালী গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে। চাপালী গ্রামের জামতলা থেকে গত ১৮ মার্চ ডিবি পরিচয়ে তাকে অপহরণ করা হয়। ১৩ এপ্রিল যশোরের হৈবতপুর বিরামপুর শ্মশান থেকে তার লাশ উদ্ধার হয়। ২৪ মার্চ কালিগঞ্জের বাকুলিয়া গ্রাম থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে অপহৃত হন শামিম হোসেন। ১৩ এপ্রিল গিফারীর লাশের সাথে একই স্থান থেকে তার লাশও উদ্ধার হয়। শামিম বাকুলিয়া গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে। তার দু’জন শিবিরের কর্মী ছিল বলে জানা গেছে।


এ দিকে, অনেকে আছেন যারা বছরের পর বছর নিখোঁজ রয়েছেন। এর সাথে নিত্যনতুন নাম যুক্ত হচ্ছে। দীর্ঘ হচ্ছে নিখোঁজের তালিকা। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে অপহৃত হন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী। তার গাড়িচালক আনসার আলীকেও তুলে নেয়া হয়। এ ঘটনায় ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদি বনানী থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করে। ঘটনার পর তাহসিনা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকার ও প্রশাসনের অনেকের সাথেই সাক্ষাৎ করে তার স্বামীকে উদ্ধারের দাবি জানান। কিন্তু চার বছরেও ইলিয়াস আলী উদ্ধার হয়নি।


২০১০ সালের ২৫ জুন রাজধানীর ফার্মগেটের ইন্দিরা রোড থেকে অপহৃত হন বিএনপি নেতা ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড সাবেক কমিশনার চৌধুরী আলম। ২৫ জুন রাত ৮টার দিকে ফার্মগেটের বাসায় যাওয়ার পথে তার গাড়ি থেকে নামিয়ে তাকে তুলে নেয়া হয়। এর পর থেকে তার কোনো হদিস নেই। এ দিকে গত ৬ মার্চ রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে নিখোঁজ হন ছাত্রদলের সাবেক এক নেতা আনিছুর রহমান খোকন। তারও কোনো হদিস নেই।


কুমিল্লার লাকসাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি লাকসাম বাজার বণিক সমিতির সভাপতি ও লাকসামের সাবেক এমপি সাইফুল ইসলাম হিরু ও লাকসাম পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির পারভেজ, রাজধানীর দক্ষিণখানের ছাত্রদল নেতা নিজাম উদ্দিন মুন্না (২৪), ঝিন্টু (২৪), কোতোয়ালি থানা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রায়হান সেন্টু, বংশাল থানার সহসভাপতি সোহেল, ৭১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি মো: জহির ও সাধারণ সম্পাদক মো: পারভেজ, ৭২ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সহসভাপতি ও কোতোয়ালি থানা ছাত্রদলের সদস্য সাব্বির, বংশাল থানা ছাত্রদলের সদস্য মো: চঞ্চল, ৭১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদস্য মো: কালু, সূত্রাপুর থানা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সম্রাট মোল্লা, ৭৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদল সভাপতি খালেদ হাসান সোহেল, ৭৮ নম্বর ওয়ার্ডের সহসভাপতি আনিসুর রহমান ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো: বিপ্লব এবং ৮০ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ মিঠুকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। ছাত্রদল নেতা আসাদুজ্জামান রানা, মাজহারুল ইসলাম রাসেল ও আল আমিন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় পাঠাগার সম্পাদক মফিজুর রহমান আশিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জিয়াউর রহমান, গোপালগঞ্জের বোড়াশী পশ্চিমপাড়ার মান্দারতলা এলাকার উবায়দুর, কাশিয়ানি উপজেলার দক্ষিণ ফুকরার মিল্টন বাজার এলাকার মাহবুব, আওয়ামী লীগ নেতা নুর মোহাম্মদ হাজী, তার জামাতা, নজরুল ইসলাম বাছা, ব্যবসায়ী হুমায়ুন, কামরাঙ্গীরচরের মাওলানা শামীম, ওয়ালি উল্লাহ, ছাত্রলীগ নেতা দেলোয়ার, শ্রমিক হাবিবুর রহমান, ব্যবসায়ী আবদুল করিম হাওলাদার, রাজধানীর মিরপুরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কালাম শেখ, তার মামাতো ভাই আবুল বাশার শেখ, আবদুল করিম ও আতাউর রহমান ওরফে ইস্রাফিল, পুরান ঢাকা থেকে ব্যবসায়ী রেজাউল করিম রিজভী, সূত্রাপুর এলাকার ব্যবসায়ী তারিব উদ্দিন আহম্মেদ, শাহজাহানপুর থেকে দোকান কর্মচারী রফিকুল ইসলাম, জিন্দাবাহার লেন এলাকার ব্যবসায়ী আয়নাল মোল্লা, কামরাঙ্গীরচরের আবদুল আজিজ লেনের বাসিন্দা সুলতান হাওলাদার, রাজধানীর দক্ষিণখান থেকে ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম, ফকিরেরপুলের হোটেল অবসরের সামনে থেকে ফেনীর সারোয়ার জাহান বাবুল, রাজধানীর সূত্রাপুর থেকে ব্যবসায়ী মমিন হোসেন, রাজশাহী মহানগরীর লক্ষ্মীপুর ভাটাপা জামে মসজিদের ইমাম ও গোদাগাড়ী পালপুর ধরমপুর মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক আমিনুল ইসলাম, মালিবাগ থেকে অপহৃত ভোলার আরিফ, জসিম, জুয়েল, শেখ সাদী, দিদার, আকাশ ও মিরাজ, হাতিরপুল এলাকা থেকে নিখোঁজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সূর্যসেন হল ছাত্রদলের সাহিত্য ও গবেষণা সম্পাদক শামীম হাসান সোহেল, মাসুম হোসেন, ঢাকার ফরাশগঞ্জ এলাকা থেকে নিখোঁজ হন ব্যবসায়ী তাবির উদ্দিন আহম্মেদ রানা। রাজধানীর গেন্ডারিয়া থেকে নিখোঁজ তপন দাস। ৯৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তুষার ইসলাম টিটু, ফার্মগেটের ব্যবসায়ী ইউসুফ আলী সুজন, ব্যবসায়ী জহির রায়হান হিরন, ব্যবসায়ী হাজী ওয়াজিউল্লাহ, সিদ্ধিরগঞ্জের সানাপাড়ের ইউনুস মুন্সি, তার মামাতো ভাই শেখেন মাতবর, তাদের সঙ্গী হাফিজুল ইসলাম স্বপন, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকার মোজাফফর, ব্যবসায়ী শহীদুর রহমান, সূত্রাপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো: মাসুদ, যাত্রাবাড়ীর গোলাম মুর্তাজা, বরিশালের করিম কুঠির এলাকার আলী হায়দার, বরিশালের জাগুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ওয়ার্ড বিএনপির সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন, বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি গোলাম মোস্তফা নান্না, ফরিদপুরের নগরকান্দার সোবহান এবং গাইবান্ধার ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আল মুকাদ্দাস (২৩) ও ওয়ালিউল্লাহ (২৪), ঝালকাঠির রাজাপুর থানা যুবদল নেতা মিজানুর রহমান জমাদ্দার এবং তার দুই সহযোগী মুরাদ ও ফোরকান, মিজানের শ্যালক মিজান শিকদার এবং তার ভাতিজা সুমন, নজরুল ইসলাম বাছা, শ্রমিক হাবিবুর রহমান, ব্যবসায়ী আবদুল করিম হাওলাদার। গত বছরের ৫ মার্চ পল্লবী এলাকা থেকে নিখোঁজ হন পোশাকশ্রমিক আমিনুল ইসলাম।