যে কারনে ইসলাম গ্রহন করেছিলেণ মোহাম্মদ আলী

Jun 04, 2016 01:02 pm

 


চলে গেলেন বিশ্বখ্যাত মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী। যারা স্মৃতির সাথে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশ। এ দেশের নাগরিকত্ব দিয়েছিলেণ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। ১৯৪২ সালের ১৭ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের লুইসভিল কেন্টাকিতে আফ্রিকার-আমেরিকান এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ক্যাসিয়ার মার্কাস ক্লে। তার বাবা ক্যাসিয়াস মার্কাস সিনিয়র ছিল পেশায় একজন সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ড পেইন্টার। মা ছিলেন গৃহিণী।

জন্মের সময়ে তাঁর নামকরণ করা হয় ক্য়াসিয়াস মার্সেলাস ক্লে নামে। এই নামে ১৯ শতকে একজন দাসপ্রথা বিরোধী নেতা ছিলেন। তাঁর নামানুসারেই আলির নামকরণ হয়।

 

সাইকেল চোরকে শিক্ষা দিতে চেয়েছিলেন মাত্র ১২ বছর বয়সে। সেই সূত্রেই বক্সিং শিখতে শুরু করেন মহম্মদ আলি। সালটা ছিল ১৯৫৪। তাঁকে পথ দেখিয়েছিলেন কেন্টাকির লুইসভিলের পুলিশ অফিসার জো মার্টিন। যিনি একজন বক্সিং ট্রেনারও ছিলেন।

 

কৃষ্ণাঙ্গ হওয়া ছোটবেলা থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের শ্বেতাঙ্গ মানুষের অবজ্ঞার শিকার হন। শ্বেতাঙ্গ মানুষের চেয়ারে তাদের বসতে দেয়া হতো না। এমন কি একজন বিশ্বসেরা বক্সার হওয়ার পরও তাকে শ্বেতাঙ্গদের হোটেলে খাবার দেয়া হয়নি। সবকিছু মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ ব্যবস্থা ও শ্বেতাঙ্গ মানুষের প্রতি অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন তিনি। এ থেকে মুক্তির একটা পথ খুঁজছিলেন।

 

১৯৬৭ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়ে মার্কিন সেনাবাহিনীর হয়ে সেখানে যেতে অস্বীকার করেন মহম্মদ আলি। এর ফলে তাঁকে গ্রেফতার হতে হয়। তাঁর বক্সিং লাইসেন্স বাতিল করে নিউ ইয়র্ক স্টেট অ্যাথলেটিক কমিশন। আলির পদক কেড়ে নেওয়া হয় ও ১০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়। ১৯৭০ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সমস্ত অভিযোগ থেকে মুক্তি পান আলি।

 

 

 

১৯৬৪ সালে ‘নেশন অব ইসলাম’ নামের একটি সংগঠনের সঙ্গে পরিচিত হন। তারা আফ্রিকা ও আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করতো। তাদের সংস্পর্শে গিয়ে ইসলামকে বুঝতে শেখেন তিনি। ইসলাম শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে কোনো পার্থক্য ও ব্যবধান রাখে না বলে জানতে পারেন তিনি। এতে এক সময় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মোহাম্মদ আলী নাম ধারন করেন। ‘নেশন অব ইসলাম’ সংগঠনটির সঙ্গে ‘ইসলাম’ শব্দ থাকলেও তারা শুধু ইসলাম নিয়ে কাজ করতো না। তারা ইসলাম ও খ্রিস্টান ধর্মের মধ্যে সমন্বয় করে একটি নতুন মতবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছিল। বিষয়টি পরে বুঝতে পারেন মোহাম্মদ আলী।

এতে ১৯৭৫ সালে তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সুন্নী মুসলিম হন। এরপরই তিনি নিজেকে প্রকৃত মুসলিম বলে পরিচিত করতে থাকেন। এক সময় তিনি বলেন, ‘আমাকে যদি বক্সিং ও ইসলাম- এই দুটোর মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নিতে বলা হয় তাহলে অবশ্যই আমি ইসলামকে বেছে নিবো’। ইসলাম গ্রহণের পর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পৃথিবীর মানুষের মধ্যে সাম্য ও ভেদাভেদ দূর করতে কাজ করে গেছেন তিনি। সর্বশেষ ২০০৫ সাল থেকে ইসলামের সুফিবাদের সংস্পর্শে আসেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সুফিবাদ চর্চা করেন মোহাম্মদ আলী।

 

কবি হিসাবেও খারাপ ছিলেন না মহম্মদ আলি। ছন্দ মিলিয়ে কবিতা লিখতেন। ১৯৬৩ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে নিজের লেখা কবিতা ও লেখা অ্যালবামের মতো করে রেকর্ড করেন তিনি।

১৯৬৪ সালে সনি লিস্টনকে হারিয়ে মাত্র ২২ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ঠ বক্সিং হেভিওয়েট চ্য়াম্পিয়ন হন আলি। ১৯৯৯ সালে স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটের বিচারে শতাব্দির সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন মহম্মদ আলি। বিবিসির বিচারে তিন হন শতাব্দির সেরা খেল-ব্যক্তিত্ব।