মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কী এরদোগানকে সরাতে চেয়েছিলো

Jul 17, 2016 02:32 pm

 


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কী এরদোগানের পতন চেয়েছিলো কিংবা সামরিক অভ্যুন্থানের পেছনে মার্কিন সমর্থন ছিলো কিনা তা নিয়ে এখন নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সামরিক অভ্যুন্থানের পর মার্কিন গনমাধ্যম ও বিশ্লেষকদের বক্তব্যে এমন আভাষ পাওয়া গেছে। তুরস্ক পরোক্ষ ভাবে ফতেউল্লাহ গুলেনকে আশ্রয় দেয়া নিয়ে মার্কিন সরকারের ভুমিকার নিন্দা করেছেন। গুলেনকে বিচারের জন্য ফেরত চেয়েছে। এদিকে অভ্যুন্থানের ব্যর্থতায় হাতাশা জানিয়ে ফক্স নিউজে কলাম লিখেছে সাবেক সেনাকর্মকতা ফিলিপ পিটার্স। “Turkey's last hope dies” শিরোনামের কলামে তিনি কোনো রাখঢাক ছাড়াই বলেছেন, “যদি এ সেনা অভ্যুথান সফল হত, তাহলে ইসলামিস্টদের পরাজয় এবং আমাদের জয় হত।” অপরদিকে হাফিংটন পোস্টে এক নিবন্ধে সিআইয়ের সাবেক কর্মকর্তাদের বিশ্লেষন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তারা সরাসরি অভ্যুন্থান সমর্থন দিয়েছেন এমনকি কিভাবে সফল করা যেতো তাও আলোচনা করেছেন।


তুরস্কে পর পর চারবার সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় থাকা একটি শক্তিশালী ও ইসলামপন্থী সরকারের বিরুদ্ধে ব্যর্থ হয়ে যাওয়া ক্যু এর পর বিভিন্ন তথ্য এবং বিশ্লেষণ সামনে আসছে।


এখন পর্যন্ত জানা গেছে, তুরস্কে ক্যু'র অন্যতম হোতা দেশটির বিমানবাহিনীর সাবেক কমান্ডার এবং বর্তমানে সুপ্রীম মিলিটারি কাউন্সিলের সদস্য আকিন ওজতুর্কের সাথে ইসরাইলের ঘনিষ্ট যোগাযোগ ছিল। তিনি ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ইসরাইলে তুরস্কের মিলিটারি এটাশে হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইসরাইলি বামপন্থী পত্রিকা হারেৎজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।


বিশ্লেষকদের মতে, ২০১০ সালের গাজায় পাঠানো ত্রাণ বহর মাভি মারমারার ঘটনার পর থেকে দীর্ঘ প্রায় ৬ বছর ধরে তুরস্কের বর্তমান এরদোগান সরকারের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা ইসরাইলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদ ক্যু’কারীদের প্রতি থাকাটা মোটেও অস্বাভাবিক নয়।


আবার ক্যু চলাকালীন পশ্চিমা মিডিয়া, এবং বিশেষ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্যু করে অপছন্দের সরকার পরিবর্তনের জন্য কুখ্যাত মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র বেশি কয়েকজন কর্মকর্তার প্রকাশ্যে মন্তব্য ও ক্যু’র হোতাদেরকে উৎসাহ দেয়ার বিষয়টি এ ঘটনায় মার্কিন ভূমিকা কেমন হতে পারে সে ব্যাপারে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।


মার্কিন টিভি চ্যানেল সিএনএন ক্যু চলাকালীন সিআইএ এর সাবেক তিন কর্মকতার বক্তব্য প্রচার করে, তাদের তিনজনই প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ক্যুকে সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছেন।


তাদের মধ্যে একজন হলেন রবার্ট বায়ের, যিনি নিজেই লাইভ টিভিতে দাবি করেছেন তিনি বহু দেশে ক্যু’র সাথে জড়িত ছিলেন। এবং তার সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বর্ণনা করেন যে, তুরস্বের গত শুক্রবারের ক্যুকারীরা অতটা পেশাদার নয়।


তিনি সরাসরি কু সফল করার জন্য পরামর্শ দিয়ে বলেন, “সেনাদের উচিত ছিল প্রথমেই সিএনএন টার্ক (যে টিভিতে প্রথম ভাষণ দিয়ে জনগনকে মাঠে নামার আহবান জানিয়েছিলেন এরদোগান) বন্ধ করে দেয়া উচিত ছিল। এছাড়া সামাজিক মাধ্যম এবং ইন্টারনেট এবং রেডিও স্টেশনগুলো প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে গ্রেফতার চেষ্টার আগেই বন্ধ করা উচিত ছিল।”
সিআইএ’র সাবেক ডিরেক্টর জেমস উসলিও হাতাশা প্রকাশ করেন ক্যু সফল না হওয়ায়।


এসময় সাবেক এক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা ওয়েসলি ক্লার্কও প্রায় একই রকম হতাশ প্রকাশ করেন। হাফিংটনপোস্ট তাদের বক্তব্যগুলো নিয়ে “Former CIA Officials Give Turkish Coup Plotters Advice On CNN” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।


ক্যু’র মূল হোতার সাথে ইসরাইলের সংযোগ এবং সাবেক মার্কিন সেনাকর্মকর্তা এবং গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের এমন প্রকাশ্য ক্ষোভ ও হাতাশার প্রকাশ থেকে কি স্পষ্ট হয় না যে, কার বা কাদের মদদে একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা হয়েছিল তুরস্কে?