ক্রমেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন মোদি

Sep 26, 2016 10:41 am


আভ্যন্তরিন আর কূটনৈতিক ইস্যুতে ক্রমেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী । কেরালার কোঝিকোড়ে বিজেপির পার্টি জাতীয় পরিষদের বৈঠকে পাকিস্তান প্রসঙ্গে পিছুটান দিয়ে কৌশলগত 'লড়াই'-এর ডাক দিলেন। এরপর নেতাকর্মীদের পরামর্শ দিলেন মুসলমানদের "নিজের লোক" হিসেবে দেখার। কংগ্রেসি জমানার ধর্মনিরপেক্ষতা ঘুরিয়ে খোঁটা দিয়েই বোঝাতে চাইলেন মুসলমানদের "নির্বাচনের বোড়ে" বানানো কোনও কাজের কথা নয়।


এর আগে কয়েকবার মোদিকে দেখা গিয়েছিল দলিতদের হয়ে কথা বলতে এবং তাঁদের যে ক্রমাগত গো-রক্ষক বাহিনীর কাছে আক্রান্ত হতে হচ্ছে, সে ব্যাপারেও অসন্তোষ প্রকাশ করতে। হায়দরাবাদের এক জনসভায় মোদী বলেন: "আক্রমণ করতে হয়, গুলি করতে হয়, আমাকে করুন, দলিতদের রেহাই দিন।" দলিত, পাকিস্তান, মুসলমান - এতদিক সামলাতে গিয়ে নরেন্দ্র মোদীকে বেশ বিব্রতই মনে হচ্ছে । পাকিস্তানকে একঘরে করার ঘোষনাও বাস্তবে করা সম্ভব হয়নি। বরং চীন ও রাশিয়া দেশটির পাশে এসে দাড়িয়েছে। ওআইসিও হঠাত কাশ্মীর নিয়ে সরব হয়ে উঠেছে। কিন্তু সব কিছু সামলাতে হচ্ছে মোদিকে। মোদীর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যে বারংবার তাঁর নিজের সমর্থকদের নানা বার্তা দেওয়া, এটি দলের জন্য খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়।


তুমুল জাতীয়তাবাদী জিগিরের সময়ে সব কেমন গুলিয়ে যাচ্ছে আসলে এই অতিজাতীয়তাবাদী জিগিরের সময়ে প্রশাসন-রাজধর্ম-দেশপ্রেম সবই যেন গুলিয়ে গিয়েছে। মুসলমানকে নিজের লোক ভাবার অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান-বিরোধী চিন্তাভাবনা। অন্যদিকে, গো-ভক্ষণের কারণেও মুসলমান বা দলিতদের সংখ্যাগুরুর পেশিশক্তির শিকার হতে হচ্ছে। দেশের ভিতরে ও বিদেশনীতিতে এক প্রবল নেতির ঝড়ঝঞ্ঝা চলেছে অহরহ। মোদী সরকারের উন্নয়নের সমস্ত যজ্ঞ-কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে তা যেন শুধু এদেশের বিপুল মধ্যবিত্তের কথা ভেবেই হচ্ছে। সেখানে মুসলমান বা দলিতদের উপর বারংবার আক্রমণের ঘটনা একধরনের 'এক্সক্লুসিভিস্ট' রাজনীতির কথাই মনে করিয়ে দেয়।

পাকিস্তান এবং মুসলমান নিয়ে মোদীর এই বার্তা কিন্তু সহজ কাজ নয় এই সপ্তাহান্তে কোঝিকোড়ে মোদীর এই পাকিস্তান এবং মুসলমান সম্পর্কিত বার্তার মধ্যে দু'টি দিক রয়েছে। এক উরিকাণ্ডের পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দেশবাসীর মনে ফুটতে থাকা আবেগকে (মিডিয়ার দৌলতে যা আরও বাড়ে) প্রশমিত করা, আর দুই, দলীয় কর্মীদের মুসলমানকে "নিজের লোক ভাবতে" শেখানোর মাধ্যমে 'ইনক্লুসিভিস্ট' রাজনীতির আমদানি করার প্রয়াস। কাজটার মধ্যে ভারসাম্য রাখা মোটেও সহজ নয়। কারণ এর মধ্যে দিয়ে নিজের অদলীয় এবং দলীয় সমর্থকদের অসন্তুষ্ট করার প্রভূত সম্ভাবনা রয়েছে।

আগামী বছর উত্তরপ্রদেশ এবং গুজরাতের নির্বাচন। এই দু'টি রাজ্যে মোদী এবং বিজেপির অনেক কিছুই হারানোর ভয় আছে। উত্তরপ্রদেশে ২০১৪-র ফলাফল যে ফ্লুক ছিল না, সেটা প্রমাণ করতে মোদী-অমিত শাহ জুড়িকে পরবর্তী উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনে ভালো কিছু করে দেখাতেই হবে। কিন্তু সম্প্রতি দলিত নেত্রী মায়াবতীর প্রতি এক বিজেপি নেতার অমার্জিত ভাষা ব্যবহার এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দলিতদের উপর হয়ে চলা বেলাগাম আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্থিতি যে সুবিধাজনক নয়, তা বিজেপি নেতৃত্ব ভালোই বুঝছেন। অন্যদিকে, মোদীর নিজের রাজ্য গুজরাতেও প্রায় দু'দশক ধরে ক্ষমতাসীন বিজেপি সম্প্রতি নানা প্রতিরোধের মুখে পড়েছে। তা সে পতিদারদের বিক্ষোভ হোক বা দলিতদের উপর আক্রমণের সমালোচনা।

আম আদমি পার্টিও এই সুযোগে মোদীর নিজের রাজ্যে বিজেপির পায়ের তোলা থেকে জমি কেড়ে নিতে তৎপর। বিজেপির শীর্ষনেতৃত্ব গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রীকেও বদল করেছেন কৌশলগত কারণে। কিন্তু এত কিছু সত্ত্বেও গুজরাত নির্বাচনের ফলাফল সম্বন্ধে মোদী-শাহরা কতটা আত্মবিশ্বাসী, তা তাঁরাই জানেন। [ বিদেশি পত্রিকা অবলম্বনে ]